সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। রোববার (১২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করেন।
কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে জমির উদ্দিন সরকার
স্ট্যাটাসে মুশফিকুল ফজল আনসারী লেখেন, বাংলাদেশের আইনাঙ্গন, সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনীতির ইতিহাসে তিনি ছিলেন এক কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্ব। প্রখ্যাত আইনজ্ঞ, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি আরও লেখেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, চারবারের নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি একজন সুলেখকও ছিলেন। তার রচিত বইগুলো পাঠক সমাদৃত।
ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ
মরহুমের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রদূত লেখেন, আমার ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি রেখে গেছেন অম্লান স্মৃতি। প্রায় ২০ বছর আগে জাতীয় সংসদের স্পিকার থাকাকালে আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের বৌভাত অনুষ্ঠানের জন্য এলডি হল বরাদ্দ দিয়েছিলেন। এমনকি সেদিন সংসদের অধিবেশন সংক্ষিপ্ত করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আমাদের দোয়া দিতে এসেছিলেন। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সাংবাদিকতা নিয়ে আমার পথচলায়ও তিনি উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আমন্ত্রণে কোর্ট প্রাঙ্গণে গেলে তার সঙ্গে দেখা করার সৌভাগ্য হয়। আমি তার সঙ্গে একটি ছবি তুলতে চাইলে তিনি আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহফুজ মিলনকে ডেকে বলেছিলেন, তার সঙ্গে আমারও একটি ছবি তুলে দাও। সেই মুহূর্তটি আমার জন্য ছিল এক অসাধারণ সম্মান, যা আজীবন স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে।
শেষ শুভেচ্ছা
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি লেখেন, একজন প্রজ্ঞাবান, সজ্জন ও রাষ্ট্রনায়কোচিত মানুষের বিদায়ে দেশ হারাল এক উজ্জ্বল অভিভাবক। ব্যক্তিগতভাবে আমি হারালাম একজন আন্তরিক শুভাকাঙ্ক্ষী। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমীন।



