ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম দুই অধিবেশনের ৪৪ কার্যদিবসে বিশেষ কমিটিসহ মোট ১০টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী মোট ৫০টি কমিটি গঠন করতে হবে। সে হিসাবে এখনও বাকি রয়েছে ৪০টি কমিটি।
প্রথম অধিবেশনে গঠিত ৭ কমিটি
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় গত ১২ মার্চ। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ২৫ কার্যদিবসের ওই অধিবেশনে ৯৪টি বিল পাস হয়। আইন প্রণয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি পাঁচটি স্থায়ী কমিটি ও দুটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
দ্বিতীয় অধিবেশনে যুক্ত হয় আরও তিনটি
দ্বিতীয় তথা বাজেট অধিবেশন শুরু হয় ৭ জুন। ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের আলোচনার পর ৩০ জুন বাজেট পাস হয়। ১৯ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে আরও তিনটি স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। ফলে দুই অধিবেশনের মোট ৪৪ কার্যদিবসে গঠিত কমিটির সংখ্যা দাঁড়ায় ১০টি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নবম ও দশম জাতীয় সংসদে প্রথম অধিবেশনেই প্রায় সব সংসদীয় কমিটি গঠনের রেওয়াজ ছিল। তবে বর্তমান সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার পরও বিশেষ কমিটিসহ মাত্র ১০টি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চিফ হুইপের বক্তব্য
সংসদীয় কমিটি গঠন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রুলস অব প্রসিডিউর অনুযায়ী তিনটি অধিবেশনের মধ্যে সব কমিটি গঠন করতে হবে। এখনও দুটি অধিবেশন শেষ হয়েছে। অপেক্ষা করুন, তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যেই সব কমিটি গঠন হয়ে যাবে।’
এ পর্যন্ত গঠিত কমিটিগুলো
প্রথম অধিবেশনে পাঁচটি স্থায়ী কমিটি ও দুটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। দ্বিতীয় অধিবেশনে যুক্ত হয় অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। এ ছাড়া হাউস কমিটির মধ্যে গঠিত হয়েছে কার্য উপদেষ্টা কমিটি, সংসদ কমিটি, বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, বেসরকারি সদস্যদের বিল ও বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটি এবং দুটি বিশেষ কমিটি।
কার্যপ্রণালী বিধির নির্দেশনা
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৪৬ বিধি (ইংরেজি সংস্করণ) অনুযায়ী, সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে নতুন সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যেই প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি করে স্থায়ী কমিটি গঠন করতে হবে। বিধিতে বলা হয়েছে, এসব কমিটি খসড়া বিল ও অন্যান্য আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত প্রস্তাব পরীক্ষা করবে, আইন বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করবে, কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ দেবে এবং সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ কর্তৃক অর্পিত অন্যান্য বিষয় পরীক্ষা করবে।



