প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শিবির করায় তাকে তারা সংগঠনে নেননি। যুগান্তরকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীনের অতীত রাজনৈতিক জীবন
নুরুল হক নুর বলেন, ব্যাচমেট হিসেবে আমি যতদূর জানতাম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিবিরের সঙ্গে ছিলেন। তখন শিবিরকে টর্চার করা হতো। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি তার পরিচয় গোপন করে জুনায়েদ সাকির ছাত্র সংগঠন ছাত্র ফেডারেশনে ঢুকেছিলেন। যখন ছাত্র ফেডারেশন নেতারা বুঝতে পারেন তিনি শিবিরের সঙ্গে জড়িত, তখন তাকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই জায়গা থেকে তিনি সীমান্ত হত্যা নিয়ে কিছু মানববন্ধন করে পরিচিতি পান। পরে তিনি এবি পার্টির মঞ্জু ভাইদের সঙ্গে ঘুরেছেন, আমাদের সংগঠনেও জয়েন করতে চেয়েছেন। কিন্তু আমরা তখন বিভিন্ন সংগঠন পরিবর্তনকারী মানুষকে গুরুত্ব দিইনি, কারণ তারা এক জায়গায় স্থির হবে না।
জুলাই আন্দোলনের পাইওনিয়ার দাবি
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, বলা চলে জুলাই আন্দোলনের পাইওনিয়ার আমরা। কিন্তু আমাদের এখান থেকে সাইট করে দিয়ে এই কতিপয় নতুন নেতৃত্বকে হাইলাইট করে এমনভাবে তৈরি করা হলো যে তারা মাস্টারমাইন্ড। অথচ এখানে অনেক ছেলেপেলে আছে যাদের ৫ আগস্টের আগে কোনোদিন একটা মিছিল-মিটিংও দেখিনি। তিনি বলেন, একক ব্যক্তি হিসেবে আমি এ আন্দোলনের লিডিং পর্যায় থেকে এ আন্দোলনটাকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। আমি তো সবাইকে চিনি।
নাসীরুদ্দীনকে নিয়ে ব্যঙ্গ
নুরুল হক নুর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে বলেন, এখন যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী— তিনি তো আমাদের ব্যাচমেট। অনেক বড় বড় বক্তব্য দেন। মানুষ তো ভাবে পির-ওলি-আউলিয়া-বিশাল ‘জাতীয় নেতা শেখ মুজিব’। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় কোনোদিন কোনো আন্দোলন সংগ্রাম মিছিল-মিটিংয়ে আমরা তাকে পাইনি।
আন্দোলনে অন্যান্য নেতাদের ভূমিকা
নুরুল হক নুর আরও বলেন, আসিফ একেবারে শেষ পর্যন্ত একজন লড়াকু ছেলে। প্রত্যেকটা আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন। নাহিদ মাঝখানে অনেক নিষ্ক্রিয় ছিলেন। ডাকসু নির্বাচনের পরে ছাত্র অধিকার পরিষদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দ্বিমত ছিল; তিনি একটু নিষ্ক্রিয় ছিলেন— কিন্তু তারও একটা পার্টিসিপেশন ছিল। পরে বিশাল বিশাল নেতা— এদের কোনো একটা মিছিলেও দেখি নাই।



