মাহাথিরের ১০১তম জন্মদিনে আক্ষেপ: দেশের জন্য কিছু অর্জন করতে পারিনি
মাহাথিরের ১০১তম জন্মদিনে আক্ষেপ: কিছু অর্জন করতে পারিনি

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ আজ শুক্রবার ১০১ বছর পূর্ণ করেছেন। আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার হিসেবে পরিচিত এই নেতা দুই মেয়াদে মোট ২৪ বছর দেশটি শাসন করেছেন। নিজের জীবনের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করার দিনে মাহাথির বললেন বর্তমানের মালয়েশিয়া নিয়ে তাঁর আক্ষেপের কথা।

জন্মদিনে আক্ষেপ

সংবাদমাধ্যম মালয়েশিয়া নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য আমি অনেক কিছুই অর্জন করতে পারিনি। আমি মনে করি, আমাদের একটি উন্নত জাতি হয়ে ওঠার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর জন্য সময়, মেধা ও সঠিক ধারণার প্রয়োজন।’

১৯৫৭ সালে স্বাধীনতার পর মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলো এসেছিল মাহাথিরের আমলেই (১৯৮১-২০০৩ এবং ২০১৮-২০২০)। মাহাথির বলেন, ‘এখন আমি যে সমস্যাটি দেখছি তা হলো, উন্নত জাতি হওয়ার এই সুযোগ সরকার দেখতে পাচ্ছে না। আর যদি দেখেও থাকে, তবে কীভাবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে, তা তারা জানে না।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দেশের ভাবনা

সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সাংবাদিক শামসুল আকমার তাঁকে প্রশ্ন করেন, ‘তাহলে সকালে ঘুম থেকে উঠে আপনি কি এসব নিয়েই ভাবেন?’

জবাবে মাহাথির বলেন, ‘হ্যাঁ। আর কী নিয়েই বা ভাবব? নিজের জন্য ভাবার সময় শেষ। এখন যা ভাবার, সবই তো দেশের জন্য। মালয়দের জন্য সংগ্রামে আমি ৮০ বছরের বেশি সময় পার করেছি। আমি অন্যদের বা অ-মালয়দের অধিকারও স্বীকার করি। তবে মালয়দের ভূমি হিসেবেই আমাদের দেশের উৎপত্তি।’

রাজনৈতিক অবস্থান

মাহাথিরের উপস্থিতি কখনো কখনো বর্তমান ক্ষমতাসীনদের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের পদত্যাগ দাবিতে একটি বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রতিশ্রুত সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনীতি ও রাষ্ট্র নিয়ে কথা বলার সময় এখনো নিজের স্বভাবসুলভ তীক্ষ্ণতা ধরে রেখেছেন মাহাথির। সাক্ষাৎকারে এমন একটি বিষয়েই বেশি তিনি জোর দিয়েছেন, যা নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে বেশি কথা বলেছেন। তা হলো মালয়দের মধ্যে অনৈক্য। সম্প্রতি তিনি শুধু মালয় প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার জন্য জাতিগত মালয়দের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁর এ বক্তব্য বিতর্ক সৃষ্টি করে।