রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আবাসিক এলাকা জাপান গার্ডেন সিটিতে টানা চার দিন ধরে বিদ্যুৎ বিপর্যয় চলছে। মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া এই সংকটে হাজারও বাসিন্দা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জেনারেটর দিয়ে সাময়িকভাবে সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করা হলেও লিফট ও পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় উঁচু ভবনের বাসিন্দারা কার্যত বন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
২৬ ভবনের মধ্যে ৭টি এখনও বিদ্যুৎহীন
সরেজমিন দেখা যায়, জাপান গার্ডেন সিটির ২৬টি ভবনের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে ১৯টিতে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা সম্ভব হলেও এখনও ৭টি ভবন সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। মূলত ভবনগুলোর অভ্যন্তরীণ সংযোগের কারিগরি ত্রুটির কারণে এই সাত ভবনে এখনও আলো জ্বলেনি। প্রচণ্ড গরমে এসব ভবনে বসবাসকারী শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন।
মন্ত্রী ও ডিপিডিসির বক্তব্য
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু যুগান্তরকে বলেন, 'আমি এ বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। এটা আমাদের ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) কোনো সমস্যা নয়। জাপান গার্ডেন সিটি চলে তাদের নিজেদের সমিতির মাধ্যমে। সেখানকার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে।'
ডিপিডিসি জানিয়েছে, জাপান গার্ডেন সিটির নিজস্ব ৩৩ কেভি সাবস্টেশনের একটি ট্রান্সফরমারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এই সংকটের সূত্রপাত। গ্রাহক পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ কারিগরি সমস্যার কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে। শুরুতে কর্তৃপক্ষ নিজেরা মেরামতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে ডিপিডিসি নিজ উদ্যোগে সংযোগ সচলের কাজ শুরু করে।
ব্যবস্থাপকের ব্যাখ্যা
জাপান গার্ডেন সিটির ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, 'বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটির কারণে সমস্যাটি দীর্ঘ হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করতেও সময় লেগেছে। বিদ্যুৎ আসার পরে কয়েকটি ভবনে আবারও সমস্যা দেখা দেয়। আমরা আশা করছি, এ ধরনের সমস্যা পরে আর হবে না।'
বাসিন্দাদের ক্ষোভ
ভুক্তভোগী বাসিন্দা তৌহিদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, 'বাসিন্দারা কমার্শিয়াল রেটে বিদ্যুৎ বিল দিলেও কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।' ২০ নম্বর ভবনের বাসিন্দা মাসুম খন্দকার জানান, ফ্রিজের অনেক জিনিস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা সেগুলো নিকটাত্মীয়দের বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছেন।



