তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের রায় ইতিবাচক: আখতার হোসেন
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোটের রায় ইতিবাচক: আখতার

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া রায়কে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে যে অর্জন, সেই অর্জনের পক্ষে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ ভোট দিয়েছিলেন।

আদালতের রায়ের চেয়ে জনগণের রায় গুরুত্বপূর্ণ

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে আখতার হোসেন এ কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ঠ লক্ষ্য অর্জনের দৃপ্ত শপথ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

আখতার বলেন, ‘আমাদের আবার আদালতের মুখাপেক্ষী করার যদি চেষ্টা করা হয়, যদি জনগণের রায়কে আদালতের মুখাপেক্ষী করার চেষ্টা করা হয়, সেটা বাংলাদেশের জন্য ভালো কোনো ফল বয়ে নিয়ে আসবে না। আদালতের রায়ের প্রতি আমরা ইতিবাচক। কিন্তু আমাদের এই কোর্টের রায়ের থেকেও জনগণের যে রায়, সেই রায়ের দিকে লক্ষ রাখতে হবে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জুলাই অভ্যুত্থান: শুধু হাসিনা লক্ষ্য ছিল না

এনসিপির অন্যতম শীর্ষ নেতা আখতার হোসেন বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথম অংশগ্রহণ করেন। হল খালি ঘোষণা করে তাঁদের যখন বের করে দেওয়া হয়, সেই সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা, শ্রমিক ও পেশাজীবী—সবাই নেমে এসেছিলেন। প্রবাসে যাঁরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা, তাঁরা এই আন্দোলনে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছিলেন। সমাজের কোনো অংশ যেখানে বাদ ছিল না, এমন গণ–অভ্যুত্থান, একটা বিপ্লব বাংলাদেশে সংঘটিত হলো।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আখতার হোসেন বলেন, ‘এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আমাদের আত্মোপলব্ধি হলো এই বাংলাদেশ এমন একটা ভূখণ্ড, যে ভূখণ্ডে যদি কখনো জুলুম চেপেও বসে, সেই জুলুম এখানে চিরস্থায়ী হওয়ার কোনো সুযোগ কোনোভাবেই লাভ করতে পারবে না। এ কারণে এই বাংলাদেশের মানুষ ও আপামর জনসাধারণের প্রতি একটা শ্রদ্ধাবোধের জায়গা জুলাই আমাদেরকে নতুন করে দেখিয়ে দিয়েছে। একাত্তরে যেমন এ দেশের কিষানেরা অস্ত্র হাতে ধরেছিলেন, জুলাইতে এ দেশের সাধারণ জনতা অস্ত্র হাতে ধরার সুযোগ না পেলেও বিনা অস্ত্রে খালি বুক নিয়ে অস্ত্রের বিপরীতে গুলির সামনে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। এটাই হচ্ছে জুলাই।’

জুলাই শুধু হাসিনাকে দেশ থেকে হটানো বা ক্ষমতা থেকে নামানোর উপলক্ষ ছিল না উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘শুধু হাসিনা আমাদের লক্ষ্য ছিল না; বরং হাসিনা ও আওয়ামী লীগ যে একটা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা তৈরি করেছিল, সেই ব্যবস্থা থেকে আমরা মুক্তি চেয়েছিলাম। তার জন্যই জুলাই আন্দোলনের এক দফার ঘোষণায় বলা হয়েছিল, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। এরপর বাংলাদেশে সংস্কারের বিষয় নিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা হয়েছে। আমরা রাজনৈতিক দলগুলো সেই আলোচনায় অংশ নিয়েছি, একটা ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, গণভোট হয়েছে সেই মতামতের ওপর এবং জনগণ সেখানে ভোট দিয়েছে। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে এখন তারা গ্রাহ্য করছে না।’

সভায় অন্যান্য বক্তারা

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রমুখ বক্তব্য দেন।