প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জনগণের বাজেট’ আখ্যা দিয়ে সরকারদলীয় নারী সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা বলেছেন, ট্যাক্স বা শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে এই বাজেটে পরিষ্কারভাবে ধনীদের আয়ে গরিবের ন্যায্য হিস্যা রাখা হয়েছে। যার আয় যত বেশি, তাকে তত বেশি ট্যাক্স দিতে হবে, এটি অনেকটা ইসলামের জাকাতব্যবস্থার মতো।
বাজেট আলোচনায় অংশ
রবিবার (১৪ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ষষ্ঠ দিন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নতুন সরকারের বাজেট
নতুন সরকারের ১১২ দিনের মাথায় দেওয়া ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটকে ‘ওয়েল প্ল্যানড’ উল্লেখ করে রাশেদা বেগম হীরা বলেন, দাম কমেছে ৩৭টি নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরি খাদ্যপণ্য, ইলেকট্রনিকস, প্রযুক্তি পণ্য ও চিকিৎসা সামগ্রীর। অন্যদিকে, বিলাসবহুল গাড়ি, অ্যালকোহল ও সিগারেটের মতো পণ্যের সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। এই পার্থক্য থেকেই বোঝা যায়, এই সরকার জনগণের সরকার।
তিনি বলেন, এতদিন মানুষ জনগণের টাকায় সরকার ও তাদের সমর্থকদের বিলাসিতা ও লুটপাট দেখেছে। দেশে এমন এক স্বৈরাচারী সরকার ছিল, যিনি দরিদ্র প্রজাদের কুটির জ্বালিয়ে নিজের শরীর তপ্ত করার একচেটিয়া অধিকার ভোগ করতেন। কিন্তু বর্তমান সরকার জনগণের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে কাজ করছে।
দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র ভাঙার উদ্যোগ
প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ রেগনার নার্কসের ‘দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র’ তত্ত্বের প্রসঙ্গ টেনে এমপি হীরা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের মতো সুবিধাগুলোর মাধ্যমে এই বাজেট মানুষকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বের করে আনার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে কাজ করবে।
উচ্চশিক্ষায় ১০ লাখ টাকা অনুদান, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা ও তরুণদের জন্য এআই প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা তুলে ধরে একে একটি জেন্ডার ব্যালেন্সড বা নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ বাজেট বলেও দাবি করেন তিনি।
বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান
রাশেদা বেগম হীরা বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো বিরোধী দল। বিরোধী দলকে আমরা শত্রু মনে করি না, তাদের রিয়েল পার্টনার হতে হবে। বিরোধী দলের প্রতি আমার আহ্বান, ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে, তাকে মায়ের পেটে ভ্রুণ অবস্থায় হত্যা করার চেষ্টা করবেন না। ঘোলা জলে মাছ শিকার করে কষ্টার্জিত গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টাকে জনগণ ক্ষমা করবে না।
কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই
বাজেটে কোনও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়নি উল্লেখ করে তিনি সিন্ডিকেট ভাঙার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান এবং সবাইকে সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানান।



