পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতি: ২০২৬ থেকে শুরু হবে কাজ
পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহিদউদ্দিন চৌধুরী আনিস বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা অববাহিকার বিস্তৃত কৃষি এলাকায় পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে বাস্তবায়িত হবে।
সংসদে প্রশ্নোত্তরে প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন মন্ত্রী
মন্ত্রী আনিস বৃহস্পতিবার সংসদে রুলিং দলের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ (রাজবাড়ী-২) এর উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। তিনি প্রকল্পটির গুরুত্ব দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের জন্য তুলে ধরেন। এই অঞ্চলগুলো বাংলাদেশের মোট ভূমির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে এবং প্রায় ৬.৫ কোটি মানুষের বসবাস রয়েছে এখানে।
মন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজকে নদী-নির্ভর সম্প্রদায়ের জন্য জীবনরক্ষাকারী উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, পদ্মা নদীতে একটি ব্যারেজ নির্মাণের ধারণাটি দীর্ঘদিনের। ১৯৬০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে, তিনি বলেন, প্রকল্পটি প্রণয়নের জন্য চারটি পৃথক গবেষণা পরিচালিত হয়েছিল।
গবেষণা ও পরিকল্পনার দীর্ঘ ইতিহাস
২০০২ সালে একটি প্রাক-সম্ভাব্যতা গবেষণায় সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করা হয়, এরপর ২০০৪ সালে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিস্তারিত সম্ভাব্যতা গবেষণা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই গবেষণা ২০১৩ সালে সম্পন্ন হয়, যা প্রকল্পের পূর্ণ নকশা চূড়ান্ত করতে সহায়তা করে।
পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও এই প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায়, তিনি জানান যে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করেছে এবং এটি পরিকল্পনা কমিশনে জমা দিয়েছে। প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ৩৪,৪৯৭.২৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাস্তবায়ন সময়সীমা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রকল্পের বাস্তবায়ন সময়সীমা ২০২৬ সাল থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। এই পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি দেশের কৃষি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।



