কুষ্টিয়ায় পীর হত্যার পাঁচ দিন পরও গ্রেপ্তার নেই, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে
কুষ্টিয়ায় পীর হত্যায় পাঁচ দিনেও গ্রেপ্তার নেই

কুষ্টিয়ায় পীর হত্যার পাঁচ দিন পরও গ্রেপ্তার নেই, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরছে

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম হত্যার ঘটনায় পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ঘটনাটি ঘটেছিল গত শনিবার দুপুরে, যখন শতাধিক মানুষ দরবারে হামলা চালিয়ে শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান থাকলেও এখনো সফলতা আসেনি।

পুলিশের বক্তব্য ও অভিযানের অবস্থা

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের জানান, মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার নেই। তিনি বলেন, "অভিযান চালিয়েও আসামিদের পাওয়া যাচ্ছে না।" গত রাতেও পুলিশ অভিযান চালিয়েছে, কিন্তু ফলাফল শূন্য। ওসি আরিফুর রহমানের মতে, আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে থাকতে পারে, তবে এই বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই।

এলাকাবাসীর অভিযোগ ও সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাঁরা বলেছেন, "সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁদের সরব উপস্থিতি আছে।" এই অভিযোগের বিষয়ে ওসি আরিফুর রহমান বলেন, "বিষয়টি তাঁর জানা নেই।" ঘটনার পটভূমিতে, গত শুক্রবার থেকে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যাতে শামীমকে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করতে দেখা যায়। এই ভিডিওটি ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং পরের দিন হামলার দিকে নিয়ে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যা মামলা ও আসামিদের তালিকা

সোমবার রাতে নিহত ব্যক্তির বড় ভাই ফজলুর রহমান দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে স্থানীয় জামায়াতের নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে, যিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি। অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • মো. আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি
  • রাজীব মিস্ত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা
  • মো. শিহাব, ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা

এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার নেতৃত্বে ছিলেন এক নেতা, এবং ভিডিওটি রাত থেকে সাতটি আইডি দিয়ে ছড়ানো হয়েছিল।

জামায়াতের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

হত্যার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, "ফিলিপনগরের ঘটনা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ নয়।" জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দীন ও সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল নোমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউই রাজনৈতিক দলের নেতা বা কর্মী নন, এবং এটি একটি রাজনৈতিক মহলের ইন্ধনে মিথ্যা প্রচার। তাঁরা সঠিক তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

এদিকে, ভক্তদের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার সময় শামীম হাতজোড় করে কথা বলার সুযোগ চেয়েছিলেন, কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। ঘটনাটি কুষ্টিয়া জেলায় সহিংসতা ও ন্যায়বিচারের দাবিকে নতুন করে উসকে দিয়েছে, যেখানে পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।