নবী (সা.) কটূক্তিকারীদের মৃত্যুদণ্ড আইনের দাবি সংসদে, বললেন এমপি হানজালা
নবী কটূক্তিকারীদের মৃত্যুদণ্ড আইনের দাবি সংসদে

নবী (সা.) কটূক্তিকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড আইনের জোরালো দাবি সংসদে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক আলোচনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা ও মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আবু সায়েদ মোহাম্মদ হানজালা নবী মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি বা গালিগালাজকারীদের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে সংসদে আইন পাসের দাবি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এই দাবি উপস্থাপন করেন, যা সংসদে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান দাবি

আবু সায়েদ মোহাম্মদ হানজালা তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, তিনি যে আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই অঞ্চল ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি হাজী শরীয়াতুল্লাহর আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বলেন, অন্যায়-অবিচার দূর করতে তিনি সংগ্রাম করেছিলেন এবং সেই ধারাবাহিকতায় উপমহাদেশের ইতিহাসে বড় পরিবর্তন এসেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক আলেম সমাজ তাদের প্রতিনিধিদের দিকে তাকিয়ে আছে এবং তাদের প্রত্যাশা সংসদে প্রতিফলিত হওয়া উচিত

তিনি দাবি করেন, যারা নবীকে (সা.) অস্বীকার করে বা কটূক্তি করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলে তা দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে তিনি সংসদ থেকে আইন করে এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োজনীয়তা ও সামাজিক প্রভাব

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, নবীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তির ঘটনা ঘটলে মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তাই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন পাস করা উচিত। তিনি সতর্ক করে দেন যে, এমন আইন না থাকলে সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ সময় তিনি নিজ নির্বাচনি এলাকার একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার দাবিও সংসদে তুলে ধরেন, যা তার বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করাই তার মূল লক্ষ্য

সংসদে এই দাবি উত্থাপনের পর বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের আইন প্রণয়ন জটিল ও সংবেদনশীল বিষয় হতে পারে, যা দেশের আইনি কাঠামো ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। আবু সায়েদ মোহাম্মদ হানজালার এই উদ্যোগ রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে নতুন বিতর্কের সূচনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।