সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে অগ্রগতি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেশের অবহেলিত ও প্রান্তিক এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ডব্লিউএফপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
মন্ত্রী মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে তার অফিস কক্ষে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) একটি উচ্চপর্যায়ের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এই বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, নারী ও শিশু উন্নয়ন, দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টি উন্নয়নে চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
নারীর ক্ষমতায়ন ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় অর্জন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি প্রকাশ করেন যে, সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মাথায় একটি যুগান্তকারী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানদের নামে ৩৭ হাজার ৮১৪টি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
এই কর্মসূচিটি ইউনিভার্সালি হিসাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ভিত্তিতে ডাটাবেইজ করা হচ্ছে। সরকারের অঙ্গীকার অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে সারা দেশের চার কোটি পরিবারকে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যা সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
ডব্লিউএফপির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা
মন্ত্রী ডব্লিউএফপির সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের দুর্গত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য সহায়তা, পুষ্টি কর্মসূচি এবং জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমে ডব্লিউএফপির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার নারী ও শিশুদের ক্ষমতায়ন, অনগ্রসর ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণকে অগ্রাধিকার দিয়েছে বলে তিনি জানান।
ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, ডব্লিউএফপির সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে দেশের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোকে আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে। বৈঠকে বিশেষভাবে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়:
- দরিদ্র মায়েদের পুষ্টি সহায়তা
- শিশুদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়ন
- প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন
- জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি
ডব্লিউএফপি প্রতিনিধিদলের প্রতিক্রিয়া
ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামের প্রতিনিধি দলের কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন পার্চমেন্ট মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নারী ও শিশু কল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তারা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও সমন্বিতভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন, যা bilateral সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
উপস্থিত কর্মকর্তাবৃন্দ
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন এনডিসি এবং যুগ্মসচিব মো. ফিরোজ উদ্দিন খলিফা প্রমুখ। তাদের উপস্থিতি এই আলোচনাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমৃদ্ধ করেছে এবং সরকারের সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নে অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগগুলি নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি পূরণের দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।



