সংসদে জিয়া পরিবারের ঐতিহাসিক অবদানের স্বীকৃতি
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় সংসদ সদস্যরা জোর দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে জিয়া পরিবারকে আলাদা করার কোনো সুযোগ নেই। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিবারের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
ইতিহাসের বিভিন্ন মোড়ে জিয়া পরিবারের ভূমিকা
গাজীপুর-৫ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, '১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের বিভিন্ন রাজনৈতিক মোড় ঘোরানো ঘটনায় জিয়া পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে এই পরিবারের অবদানের জন্য পুরো জাতি ঋণী।
মিলন তার বক্তব্যে একটি শক্তিশালী উপমা টেনে বলেন, 'রাজনীতি থেকে ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করলে তা চেঙ্গিস খানের যুগের মতো হয়ে যাবে। একইভাবে জিয়া পরিবারের অবদান অস্বীকার করলে বাংলাদেশের ইতিহাস অর্থহীন বা ভাসা-ভাসা হয়ে যাবে।'
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান
'জুলাই সনদ' বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিলন বলেন, জুলাই সনদ কোনো কথার রাজনীতি নয়, বরং এটি জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। তিনি জানান, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে, তবে তা একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করেই করতে হবে।
বিরোধী দলকে ওয়াকআউট না করে সংসদে বিতর্কে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'জুলাই আন্দোলন কোনো একক ব্যক্তি দ্বারা সৃষ্ট নয়; এটি জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত অবদান।' তাই সংসদের বিরোধী দলের উচিত গুজবে কান না দিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
সংসদ অধিবেশনের প্রেক্ষাপট
গত ১২ মার্চ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। পরে কার্যউপদেষ্টা কমিটি রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে। চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহম্মেদ অপু তা সমর্থন করেন।
মোট ১৮ জন সংসদ সদস্য এই আলোচনায় অংশ নেন এবং তারা নিজ নিজ এলাকার অবকাঠামোগত চাহিদাসহ বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্য
সরকারের প্রতি সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, 'আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যৌথভাবে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়তে কাজ করবেন।'
রাষ্ট্রপতির ১৬ পৃষ্ঠার ভাষণকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বিএনপির আরেক সংসদ সদস্য ফখরুদ্দিন আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বর্তমান সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো তুলে ধরেছেন এবং পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী শাসনামলে হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনাও স্বীকার করেছেন।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী সংসদ সদস্যগণ
এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেওয়া বিএনপির সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:
- জামালপুর-৪ আসনের ফারিদুল কবির তালুকদার
- চট্টগ্রাম-৯ আসনের এম আবু সুফিয়ান
- টাঙ্গাইল-৪ আসনের মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
- নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের আবুল কালাম
- কুমিল্লা-৫ আসনের জসিম উদ্দিন
- দিনাজপুর-৪ আসনের আখতারুজ্জামান মিয়া
- লালমনিরহাট-১ আসনের এম হাসান রাজিব প্রধান
- সুনামগঞ্জ-৪ আসনের নুরুল ইসলাম
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের আব্দুল মান্নান
- ঢাকা-৭ আসনের হামিদুর রহমান
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের এম এ হান্নান
- জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া-২ আসনের আব্দুল গফুর
- নীলফামারী-১ আসনের আব্দুস সাত্তার
- রংপুর-১ আসনের রায়হান সিরাজী
- মাদারীপুর-২ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা
সংসদ সদস্যরা তাদের বক্তব্যে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আপসহীন নেত্রী ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এই আলোচনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়া পরিবারের অবিচ্ছেদ্য ভূমিকার又一次 স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



