রংপুরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, মাদককারবারী মামা-ভাগ্নে বিরোধের জের
রংপুর মহানগরীতে এক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, যা এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। নিহত রাকিব হাসান (১৭) রংপুর মহানগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ঘটনার বিবরণ ও হত্যাকারীর পরিচয়
হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে মাদককারবারী মমিন মিয়া (৪০)। ঘটনার পর সে লাশ রেখে পালিয়ে যায়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাকিব ও মমিন সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে।
নিহতের মা নূরী বেগম সাংবাদিকদের জানান, তার ছেলে এলাকায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় মমিনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এরই জেরে বৃহস্পতিবার বিকালে মমিন রিকশাযোগে মাছুয়াপাড়া এলাকা অতিক্রম করার সময় রাকিবকে দেখতে পেয়ে কোমর থেকে দা বের করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই রাকিবের মৃত্যু হয়।
পূর্বের হামলা ও পুলিশের ভূমিকা
নিহতের বাবা আব্দুস সামাদ বলেন, এর আগেও একই কারণে মমিন রাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছিল। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে রাকিব বর্তমান বাড়িতে ছিল। গত ১৪ নভেম্বর কোতোয়ালি মেট্রোপলিটন থানায় এ নিয়ে মামলা হলেও পুলিশ মমিন মিয়াকে গ্রেফতার করেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান জানান, মাদক ব্যবসায়ী মমিনের বিরুদ্ধে রাকিবকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং আসামিকে গ্রেফতারের জন্য একাধিক টিম কাজ করছে।
তদন্তের অগ্রগতি ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
ওসি আজাদ রহমান আরও জানান, সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়েছে এবং থানা ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত করছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। র্যাব-১৩ রংপুর টিমের সদস্যরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং তারা ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।
নূরী বেগম আরও বলেন, স্থানীয় অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও আতঙ্কের কারণে কেউ এগিয়ে আসেননি। তার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করে মমিন বীরদর্পে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকাবাসী শোক ও আতঙ্কে রয়েছেন, এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছেন।



