মুক্তিযুদ্ধের সহযোগীদের তালিকায় তিন দলের নাম বহাল রেখে জামুকা আইন সংশোধনের বিল পাস
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধনের বিলে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দেশীয় সহযোগীদের তালিকায় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম বহাল রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়, যদিও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়।
বিল উত্থাপন ও পাসের প্রক্রিয়া
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান সংসদের বৈঠকে বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি পাসের সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা দীর্ঘ বক্তব্য দিয়ে আপত্তি জানালেও, তিনি কোন নির্দিষ্ট ধারায় সংশোধন চান তা উল্লেখ করেননি। ফলে স্পিকার তার আপত্তির বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে ভোট দেননি।
জামায়াতের আপত্তি ও জোটসঙ্গীর অবস্থান
জামায়াতে ইসলামীর আমির বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার পরের সরকার, জিয়াউর রহমান বা খালেদা জিয়ার সরকার কেউই আইনের সংজ্ঞায় রাজনৈতিক দলগুলোর নাম এভাবে আনেননি। তার মতে, বিষয়টি প্রথমে শেখ হাসিনার আমলে এসেছে, পরে অন্তর্বর্তী সরকারও সামান্য পরিবর্তনসহ সেই ধারাবাহিকতা রেখেছে। তবে জামায়াতের জোটসঙ্গী এনসিপি পক্ষ থেকে এই বিলের ওপর কোনো আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে লিখিতভাবে জানানো হয়।
বিলের মূল সংশোধনী ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা এ অধ্যাদেশে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগীর’ সংজ্ঞা নতুন করে নির্ধারণ করা হয়। সেখানে পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগীদের তালিকায় তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম রাখা হয়েছিল। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর বলেন, “আল্লাহ ভালো জানেন, ’৭১ সালের সেই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহই পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী, আমরা বাকিরা আংশিক সাক্ষী।”
রাজনৈতিক বিভক্তি এড়ানোর আহ্বান
শফিকুর আরও বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি সুস্থ ধারায় চলুক, প্রতিটি রাজনৈতিক দল জনগণের প্রতি দায়দরদ ও দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কাজ করুক। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা আর এই জাতিতে কোনো বিভক্তি চাচ্ছি না।” স্পিকার পরে উল্লেখ করেন, বিরোধী দলীয় নেতা কার্যত নির্দিষ্ট কোনো আপত্তি তোলেননি, বক্তব্য দিয়েছেন। এরপর তিনি মন্ত্রীকে বিলটি উত্থাপনের আহ্বান জানান।



