সংসদে ‘জঙ্গি এমপি’ অপবাদের অভিযোগ, হানজালার বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ণের নোটিশ
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা জাতীয় সংসদে ‘জঙ্গি এমপি’ বলে অপবাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ণের নোটিশ দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই ঘটনায় তিনি সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে তার বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
নোটিশ জমা ও অভিযোগের বিবরণ
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের নোটিশ শাখায় নোটিশটি জমা দেন হানজালা। সংসদ সচিবালয় সূত্র অনুযায়ী, নোটিশে তিনি উল্লেখ করেছেন যে গত ৩০ মার্চ সংসদ এলাকায় তাকে প্রকাশ্যে ‘জঙ্গি এমপি’ বলে অপবাদ দেওয়া হয়। এই অপবাদ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি ভীষণভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন।
হানজালা মনে করছেন, জাতীয় সংসদের অভ্যন্তরে এই গর্হিত কাজ হওয়ায় তার বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তিনি ‘জঙ্গি’ শব্দটিকে ‘ফ্যাসিস্ট ওয়ার্ড’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “১৭ বছর ধরে এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করে ‘ভালো মানুষকে, দাড়িওয়ালা–টুপিওয়ালা মানুষকে’ বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে তারা হেয় প্রতিপন্ন করছে।”
স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা
হানজালা সরকারি ও বিরোধী দলনির্বিশেষে সব সংসদ সদস্যের সম্মান রক্ষায় স্পিকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি চাই, আপনার মাধ্যমে প্রত্যেকেই যেন তার সম্মান নিয়ে থাকতে পারেন। কারও সম্মান ভবিষ্যতে কেউ যেন ক্ষুণ্ণ করতে না পারে।”
স্পিকারের মাধ্যমে হানজালার বিশেষ অধিকারের বিষয়টি অধিকতর পরীক্ষা, তদন্ত এবং প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পূর্ববর্তী অভিযোগ ও তদন্ত দাবি
এর আগে গত ২ এপ্রিলও সংসদে একই অভিযোগ তুলে তদন্ত দাবি করেছিলেন হানজালা। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, স্পিকারের সহধর্মিণীর জানাজায় অংশ নিতে গিয়ে একজন সংসদ এলাকায় তাকে দেখে মন্তব্য করেছেন, “ওই যে জঙ্গি এমপি যাচ্ছে।” এই ঘটনাটি তার সাম্প্রতিক নোটিশের পটভূমি হিসেবে কাজ করেছে।
হানজালার এই নোটিশ সংসদীয় বিশেষ অধিকার সংক্রান্ত আলোচনাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির তদন্ত এই বিষয়ে স্পষ্টতা আনতে পারে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।



