সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তির বিল পাস: আইনমন্ত্রী দিলেন ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। এই বিলের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের জন্য সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন সচিবালয়টি বিলুপ্ত করা হবে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন এবং তা ভোটে গৃহীত হয়।
বিলের উদ্দেশ্য ও সরকারের যুক্তি
বিলে উল্লিখিত উদ্দেশ্য ও কারণ অনুযায়ী, সরকারের মতে একটি পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের প্রয়োজনীয়তা ও কাঠামো নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আরও আলোচনা ও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন। যদিও পূর্ববর্তী অধ্যাদেশগুলো প্রথমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য জারি করা হয়েছিল, তবে সরকার এখন প্রশাসনিক জটিলতা এড়াতে আইনি বিধানগুলো পুনর্মূল্যায়ন করতে চায়।
বিলুপ্তির পর কী হবে?
এই আইন কার্যকর হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং এর জন্য বিশেষভাবে সৃষ্ট সকল পদ বাতিল করা হবে। সচিবালয়ের অধীনে পূর্বে বরাদ্দকৃত সকল বাজেট, প্রকল্প ও কর্মসূচি সরকারের আইন ও বিচার বিভাগে স্থানান্তরিত হবে। তবে, রেজিস্ট্রি, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল এবং অধস্তন আদালতের জন্য ব্যবহৃত সাংগঠনিক কাঠামো, যানবাহন ও অফিস সরঞ্জাম অক্ষত থাকবে, কিন্তু তা আইন ও বিচার বিভাগের এখতিয়ারে চলে যাবে।
বিচারিক কর্মকর্তাদের অবস্থান
সচিবালয়ে দায়িত্ব পালনকারী বিচারিক কর্মকর্তাদের চাকরির শর্তাবলী ২০২৫ সালের অধ্যাদেশের পূর্বে তাদের জন্য প্রযোজ্য আইনে ফিরে যাবে। বিলে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বর্তমানে রহিতকৃত অধ্যাদেশগুলোর অধীনে গৃহীত সকল পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা আইনি সুরক্ষা পাবে, যাতে সচিবালয়ের অস্তিত্বকালে সম্পন্ন প্রশাসনিক কাজ বৈধতা বজায় রাখে।
সংসদে বিরোধী দলের আপত্তি ও আইনমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান যখন সংসদে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬ বিবেচনার জন্য উত্থাপন করেন, তখন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নাজিবুর রহমান আপত্তি জানান। এর জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, একটি আইন অসাংবিধানিক কিনা তা সুপ্রিম কোর্টই বলতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বিশ্বের অন্যতম সেরা আদালত, যেখানে বিচারকদের চাকরি, বদলি ও পদায়ন সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত। আসাদুজ্জামান বলেন, তারা সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যা বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে, বিরোধী দলের আপত্তি ভোটে নাকচ হয়ে যায়।
এই বিল পাসের মাধ্যমে সরকার বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে আইন ও বিচার বিভাগের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরিবর্তন, যা দেশের বিচারিক ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



