সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী অনুমোদন: আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত
জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল পাস হয়েছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশকে আইনি কাঠামো দিয়েছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনো সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। গত বছর এই অধ্যাদেশের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল, এবং নতুন বিল পাসের ফলে তা বহাল থাকবে।
বিল পাসের প্রক্রিয়া ও বিরোধী দলের আপত্তি
গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিলটি পাসের আগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আপত্তি জানান, যুক্তি দেন যে তাঁরা বিলের তুলনামূলক শিট মাত্র কয়েক মিনিট আগে পেয়েছেন এবং এটি পুরোপুরি পড়ার সময় পাননি। তিনি আইনটিকে স্পর্শকাতর উল্লেখ করে আরও সময় চান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জবাবে বলেন, আপত্তি জানানোর নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেছে এবং বিলের এই পর্যায়ে আর আপত্তির সুযোগ নেই। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন, উল্লেখ করেন যে এটি একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধকরণ সংশোধনী এবং আগের সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয়।
বিলের মূল বিধান ও প্রভাব
পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, সরকার কোনো ব্যক্তি বা সত্তাকে সন্ত্রাসী কাজে জড়িত থাকলে প্রজ্ঞাপন জারি করে সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা বা তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পারবে। এতে নিষেধাজ্ঞার বিধান যুক্ত হয়েছে, যেমন প্রেস বিবৃতি প্রকাশ, গণমাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল-সমাবেশ আয়োজন বা জনসম্মুখে বক্তৃতা প্রদান নিষিদ্ধ করা হবে।
এই সংশোধনীর ফলে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর উপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে, এবং নির্বাচন কমিশনে তাদের নিবন্ধন স্থগিত অবস্থায় রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছিল, যার মধ্যে এই সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশও রয়েছে।
অন্যান্য বিল পাস ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এছাড়াও গতকাল সংসদে সরকারি হিসাব নিরীক্ষা বিল, প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন অব ফিশ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল, জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) বিল সহ মোট ১১টি বিল পাস হয়েছে। এসব বিলের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই আইন সংশোধন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পথ সুগম করেছে। বিরোধী দলীয় নেতার আপত্তি সত্ত্বেও বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়, যা রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।



