সংসদে উঠল শিশু মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণার দাবি
গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের ১১তম দিনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার প্রয়াত ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে 'শিশু মুক্তিযোদ্ধা' হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
ইতিহাসের বিরল দৃষ্টান্ত
মুজিবুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে দীর্ঘ ৯ মাস বন্দি থেকেও জিয়া পরিবার যে অসীম ধৈর্য ও দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছে, তা ইতিহাসে বিরল ঘটনা। তিনি উল্লেখ করেন যে দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া সেই সময় তার দুই সন্তানসহ পাকিস্তানিদের হাতে বন্দি ছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো সেই কঠিন দিনগুলো মায়ের সঙ্গে বন্দিশালায় কাটিয়েছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনও রাজনৈতিক চাটুকারিতা নয়, বরং ইতিহাসের একটি অমোঘ সত্য। মুজিবুর রহমান আরও উল্লেখ করেন যে তিনি নির্বাচনের আগে থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তৃতায় এই দাবি করে আসছেন।
সময়ের দাবি হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা
বিএনপি দলীয় এই সংসদ সদস্য তার বক্তব্যে দুটি মূল দাবি উপস্থাপন করেন:
- বেগম খালেদা জিয়াকে তার অবদানের জন্য পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
- ৯ মাস বন্দি জীবন কাটানোয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সহোদর ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের যুগান্তকারী উক্তি ও দেশপ্রেমের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমেছিল। একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়তে হলে ইতিহাসের প্রতিটি ত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন অপরিহার্য বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণ
প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণ করে মুজিবুর রহমান বলেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে তিলে তিলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। শৈশবে যুদ্ধের ময়দানে বন্দি থাকা থেকে শুরু করে পরবর্তী জীবনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া পর্যন্ত তার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় বেদনাবিধুর ছিল।
মুজিবুর রহমান শেষ পর্যন্ত দাবি করেন যে তিনি এই প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করার জন্য করছেন না, বরং এটি ইতিহাসের ন্যায়সংগত দাবি। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত এই প্রস্তাবটি সংসদীয় আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



