সংসদে অধ্যাদেশ পাসের জন্য শুক্রবারেও অধিবেশনের সম্ভাবনা
সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম বুধবার বলেছেন, সংবিধানের ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে অধ্যাদেশ পাস করতে হবে এবং সময়মতো কাজ শেষ করতে প্রয়োজনে শুক্রবারেও সংসদ অধিবেশন বসতে পারে। তিনি বুধবার সংসদ ভবনের টানেলে সংসদ অধিবেশনের বিরতিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান।
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাধ্যতামূলক
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশগুলো নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে পাস করতে হবে। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৪৪টি অধ্যাদেশ ইতিমধ্যে পাস করা হয়েছে। প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে বেশ কয়েকটি অধ্যাদেশ একত্রিত করে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হচ্ছে বলে তিনি যোগ করেন।
অতিরিক্ত অধিবেশনের পরিকল্পনা: সময়সীমার মধ্যে অধ্যাদেশ পাস নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সংসদ অধিবেশন বসবে এবং প্রয়োজনে শুক্রবার সকাল ও বিকাল উভয় সময় অধিবেশন বসানো হতে পারে বলে চিফ হুইপ স্পষ্ট করেন।
নারী সংরক্ষিত আসন বণ্টন প্রক্রিয়া
নারী সংরক্ষিত আসন প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৩৬টি আসন পেতে পারে, যা জোটের অংশীদারদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা, সংসদীয় কার্যক্রমে কার্যকর অংশগ্রহণের সক্ষমতা এবং গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলন ও সংগ্রামে নিষ্ঠা ও ত্যাগ প্রমাণ করেছেন এমন নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সামাজিক প্রতিনিধিত্ব: সমাজের সব শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন, তবে চূড়ান্ত মনোনয়ন দলীয় প্রধানই ঠিক করবেন।
সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে অনিয়মের অভিযোগ
সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, অদক্ষ প্রতিষ্ঠানের কাছে কাজ দেওয়া, নির্দিষ্টকরণের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সরঞ্জাম সরবরাহ এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মসহ গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান, তবে সংসদীয় কার্যক্রম ব্যাহত না হওয়ার জন্য বর্তমান অধিবেশন শেষে এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে।
আইনের শাসন ও রাজনৈতিক দর্শন
সন্ত্রাস বিরোধী আইন বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, তাদের রাজনৈতিক দর্শন প্রতিশোধমূলক রাজনীতি এড়ানোর উপর ভিত্তি করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “আমরা ভালোবাসার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করব” এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেকে সব নাগরিকের নেতা হিসেবে বিবেচনা করেন, কে তাকে ভোট দিয়েছে তা নির্বিশেষে।
আইনের শাসনের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে বিদ্যমান আইনে শাস্তি পাবে, তবে রাজনৈতিক কারণে কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হবে না বলে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।
নতুন সংসদ সদস্যদের অভিজ্ঞতা
চিফ হুইপ আরও বলেন, নতুন সংসদের অনেক সদস্যের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাবরণ ও নিপীড়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তারা এখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ ও জাতি গঠনে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সংসদীয় কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণ দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই প্রক্রিয়ায় সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের সহযোগিতা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন নুরুল ইসলাম।



