সংসদ প্রাঙ্গণে ‘জঙ্গি এমপি’ কটাক্ষ, হানজালার তদন্ত দাবি
মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা সংসদ প্রাঙ্গণে ‘জঙ্গি এমপি’ বলে কটাক্ষের শিকার হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকালে সংসদের প্রথম অধিবেশনের সপ্তম দিনে তিনি স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের কাছে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান।
ঘটনার বিবরণ
হানজালা বলেন, “সংসদের দক্ষিণ প্লাজা দিয়ে যখন আমি ভেতরে ঢুকবো, কাছাকাছি পেছন থেকে কেউ একজন আমাকে সম্বোধন করছিল- ওই যে জঙ্গি এমপি যাচ্ছে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি এবং ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
তিনি আরও বলেন, “জাতীয় সংসদের একজন রানিং এমপিকে সংসদে যখন জঙ্গি বলে সম্বোধন করা হয়, এটার জন্য সংসদের মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আমি মনে করি।”
পোশাক নিয়ে বক্তব্য
হানজালা তার পোশাকের বিষয়ে বলেন, “জঙ্গি বলার কারণটা আমি যতটুকু মনে করলাম আমার মাথায় একটা পাগড়ি রয়েছে এবং আমার গায়ে সাদা পাঞ্জাবি রয়েছে। এই জন্য সে হয়তো আমাকে জঙ্গি বলে সম্বোধন করেছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আল্লাহর নবীর সুন্নত এবং এই পোশাক কোনো দিন জঙ্গির সিম্বল হতে পারে না।”
তদন্তের অনুরোধ
হানজালা স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানান, “আপনার কাছে অনুরোধ- সিসি ফুটেজ রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটু অনুরোধ করবেন বা তাদের একটু নির্দেশ দেবেন কারা এই কাজটি করেছে। বিরোধী দলের সম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্য এটা হয়েছে। ওখানে প্রশাসন দাঁড়িয়ে ছিল। এই জন্য সঠিক তদন্তের নির্দেশনা যদি আপনার মাধ্যমে আসতো তাহলে বিষয়টি ক্লিয়ার হতো।”
স্পিকারের প্রতিক্রিয়া
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ঘটনাটিকে “অত্যন্ত দুঃখজনক” বলে অভিহিত করেন। তিনি হানজালাকে বলেন, “আমি আপনাকে অনুরোধ জানাবো বিশেষ অধিকার প্রশ্নে আপনি একটা নোটিশ দেন আমরা বিষয়টি বিবেচনা করব।”
হানজালার প্রথম বক্তৃতা
হানজালা উল্লেখ করেন যে, এটি তার প্রথমবার সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলা। তিনি বলেন, “আমি প্রথমবার সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলছি। এভাবে কথা বলতে চাইনি। আমি চেয়েছিলাম যখন আমার সময় আসবে তখন আনুষ্ঠানিকভাবে সুন্দর করে কথা বলবো।” তিনি স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “দুঃখের সঙ্গে বলছি গত ৩০ মার্চ আপনার (স্পিকার) সহধর্মিণী মারা গেছেন। আল্লাহ ওনাকে জান্নাতের আলা মাকাম দান করুন এই দোয়া করি। ওনার জানাজায় আমি এসেছিলাম। উপস্থিত হয়েছিলাম।”
এই ঘটনা ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে একটি বিতর্কিত ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে, যা সংসদীয় শিষ্টাচার ও সম্মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।



