সংসদ ভবনে এমপিকে ‘জঙ্গি’ সম্বোধন: হানজালার তীব্র প্রতিক্রিয়া
মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা সংসদ ভবনে প্রবেশের সময় এক ব্যক্তি কর্তৃক ‘জঙ্গি এমপি’ সম্বোধনের ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপণ পর্বে দাঁড়িয়ে তিনি এই ঘটনার সঠিক তদন্তের জোরালো দাবি জানান।
ঘটনার বিবরণ ও হানজালার বক্তব্য
এমপি হানজালা বলেন, গত ৩০ মার্চ তিনি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রমের) স্ত্রীর জানাজায় অংশ নিতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রবেশ করার সময় পেছন থেকে এক ব্যক্তি তাকে ‘জঙ্গি এমপি’ বলে সম্বোধন করে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘সম্ভবত আমার পোশাক, আমার পাগড়ি- এসবের কারণেই আমাকে জঙ্গি শুনতে হয়েছে।’ এই ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে না হলেও, পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে তিনি বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করেন।
হানজালা জোর দিয়ে বলেন, ‘জাতীয় সংসদের একজন চলমান এমপিকে সংসদের কাছেই এভাবে অপমান করা হয়েছে, যা সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে বলে আমি মনে করি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আল্লাহর নবীর সুন্নত এবং এই পোশাক কোনোদিন জঙ্গির সিম্বল হতে পারে না।’ এই প্রসঙ্গে তিনি স্পিকারের কাছে একটি অনুরোধ পেশ করেন, যাতে সিসি ফুটেজ পর্যালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংসদের নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্পিকারের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী পদক্ষেপ
এমপি হানজালার বক্তব্যের জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন। তিনি পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন এবং এমপি হানজালাকে নোটিশ দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে বিষয়টি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা যায়। এই ঘটনা সংসদীয় পরিবেশে নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রশ্নে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে, যা রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংসদ সদস্যদের প্রতি সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি এখানে কেন্দ্রীয় হয়ে উঠেছে, এবং হানজালার দাবি অনুযায়ী তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হতে পারে। এই ঘটনা সংসদীয় আইন ও নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়ে পুনর্বিবেচনারও দাবি রাখে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



