জাতীয় সংসদে এক সংসদ সদস্য অভিযোগ করেছেন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের স্ত্রীর জানাজায় যোগ দিতে সংসদ কমপ্লেক্সে প্রবেশকালে তাকে ‘জিহাদি এমপি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ উদ্দিন আহমদ হানজালা বৃহস্পতিবার সংসদে ৭১ নম্বর বিধি তুলে এই বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং একটি আনুষ্ঠানিক তদন্তের আহ্বান জানান।
ঘটনার বিবরণ
হানজালা সংসদে বর্ণনা দেন, তিনি সংসদ কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় প্রবেশ করার সময় পেছন থেকে কেউ বলে, ‘সেই যে জিহাদি এমপি যাচ্ছে’। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সপ্তম দিনে তিনি এই ঘটনা সংসদে তুলে ধরেন। পরবর্তীতে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা দেখতে পান এবং মনে করেন, একজন সাংসদের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য সংসদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
ধর্মীয় পোশাকের প্রসঙ্গ
স্পিকারের উদ্দেশ্যে হানজালা বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন এই মন্তব্য তার চেহারা ও ধর্মীয় পোশাকের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। তিনি সাদা পাঞ্জাবি ও টুপি পরিধান করছিলেন, যা নবীর সুন্নাহর সাথে যুক্ত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এমন পোশাককে চরমপন্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
তদন্তের অনুরোধ
হানজালা স্পিকারকে অনুরোধ করেন, সিসিটিভি ফুটনেস পর্যালোচনা করে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংসদ নিরাপত্তা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে দায়ীদের শনাক্ত করতে। তিনি বলেন, সংসদে এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য এবং এর জন্য জবাবদিহিতা প্রয়োজন।
স্পিকারের প্রতিক্রিয়া
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে বর্ণনা করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে একটি নোটিশ জারির আহ্বান জানান এবং বলেন, বিষয়টি আরও বিবেচনা করা হবে। স্পিকার সংসদের মর্যাদা রক্ষায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।
এই ঘটনা সংসদে আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং অনেক সদস্য হানজালার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তারা বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয় বা পোশাকের ভিত্তিতে কোনো সংসদ সদস্যের প্রতি এমন মন্তব্য সংসদীয় ঐতিহ্যের পরিপন্থী। এখন দেখা যাক, স্পিকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কীভাবে তদন্ত এগোয় এবং দায়ীরা শনাক্ত হয় কিনা।



