বিদ্যুৎ মন্ত্রী পার্লামেন্টে বললেন: চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ ঘাটতি নেই
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, দেশে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় কোনো ঘাটতি নেই। তবে গ্রীষ্মকালে পিক আওয়ারে বিভিন্ন কারণে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রীর বক্তব্য
মন্ত্রী ট্রেজারি বেঞ্চের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের (ঢাকা-১৮) একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য দেন। তিনি বলেন, "বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি না থাকলেও, গ্রীষ্মে পিক চাহিদার সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি, ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ঝড়-বৃষ্টির কারণে কিছুটা লোডশেডিং হয়। এতে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয় না।"
বিদ্যুৎ উৎপাদনের বর্তমান অবস্থা
ইকবাল হাসান বলেন, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩২,৩৩২ মেগাওয়াট (এমডব্লিউ)। এর মধ্যে গ্রিড-ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৮,৯১৯ মেগাওয়াট। তিনি উল্লেখ করেন, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দৈনিক গড়ে ১৪,৫০০ থেকে ১৫,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা চাহিদার ওপর নির্ভরশীল।
বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ
মন্ত্রী বিদ্যুৎ বিভাগের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ওপর জোর দেন। ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
- বিদ্যুৎ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া
- জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্য আনয়ন
- বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ
মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে একটি ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
তিনি উল্লেখ করেন, "বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। ভবিষ্যতে লোডশেডিং আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।"



