সরকারি দলের সদস্যের মুলতবি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সংসদে আলোচনা নির্ধারণ
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে মুলতবি প্রস্তাব, ৫ এপ্রিল সংসদে আলোচনা

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সংসদে মুলতবি প্রস্তাব: ৫ এপ্রিল আলোচনা নির্ধারণ

জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার জন্য সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক একটি মুলতবি প্রস্তাব এনেছেন। আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছেন এবং ৫ এপ্রিল রোববার দিনের সর্বশেষ বিষয় হিসেবে এর ওপর দুই ঘণ্টা আলোচনার সময় বরাদ্দ দিয়েছেন।

সংসদীয় ইতিহাসে বিরল নজির

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এটি একটি বিরল ঘটনা। দীর্ঘ ৫৩ বছরের পথচলায় এই প্রথমবারের মতো সরকারি দলের কোনো সদস্যের আনা মুলতবি প্রস্তাব আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, "কার্যপ্রণালি বিধির ৬৫ (২) বিধি অনুযায়ী আমি এই প্রস্তাবটি আলোচনার অনুমতি দিচ্ছি। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।"

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, এই সনদের সংবিধানসম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের একটি স্তর ছিল গণভোট। সেখানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এগুলো বাস্তবায়নে চলতি সংসদ একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করার কথা। কিন্তু এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি এবং বিএনপির সংসদ সদস্যরা এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথও নেননি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এর আগে, গত ৩০ মার্চ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালও জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নপ্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য একটি মুলতবি প্রস্তাব এনেছিলেন, যেটি নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এছাড়া, ২৯ মার্চ বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের বিষয়ে আলোচনার জন্য আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব এনেছিলেন। গত মঙ্গলবার এটি নিয়ে সংসদে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, এবং এর প্রতিবাদে আজ বুধবার বিরোধী দল ওয়াকআউট করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জয়নুল আবদিন ফারুকের প্রস্তাবের মূল বক্তব্য

সরকারি দলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক তাঁর মুলতবি প্রস্তাবে বলেন, "দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ ও লড়াইয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের ফসল এই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। এটি ভবিষ্যতের পথরেখা।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সনদ মূলত একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যেখানে সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন-কানুন প্রণয়ন, সংশোধন ও পরিমার্জনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’–এর প্রকৃত বাস্তবায়নপদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে বর্তমান সংসদের কার্যক্রম মুলতবি রেখে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

আলোচনার সময়সূচি ও গুরুত্ব

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রস্তাবটি গ্রহণ করে সংসদের বর্তমান কাজের অবস্থা বিবেচনা করে ৫ এপ্রিল রোববার দিনের সর্বশেষ বিষয় হিসেবে এ প্রস্তাবের ওপর অনধিক দুই ঘণ্টা আলোচনার সময় নির্ধারণ করেছেন। এই আলোচনা জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান রাজনৈতিক জটিলতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এই ঘটনা বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের পথ সুগম হয়।