জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের ঘোষণা: সংসদ থেকে ওয়াকআউটের পর জনগণের কাছে যাবে ১১ দলের আন্দোলন
ওয়াকআউটের পর শফিকুর রহমানের ঘোষণা: ১১ দলের আন্দোলন

সংসদ থেকে ওয়াকআউটের পর শফিকুর রহমানের ঘোষণা: জনগণের সঙ্গে আন্দোলনে যাবে ১১ দল

জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করার পর বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি আদায় না হওয়ায় এখন জনগণের কাছেই ফিরে যাবেন এবং জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ মোট ১১টি দল নিয়ে গণআন্দোলন গড়ে তুলবেন।

ওয়াকআউটের পেছনের কারণ ও জনগণের প্রতি আহ্বান

বুধবার বিকেলে সংসদ অধিবেশনকক্ষের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শফিকুর রহমান ওয়াকআউটের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের বিষয়ে কোনো প্রতিকার না পাওয়া এবং তাদের প্রস্তাবটি চাপা দিতে আরেকটি প্রস্তাব আনার প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শফিকুর রহমান বলেন, 'বাংলাদেশে আগে তিনটি গণভোট হয়েছে, কিন্তু কোনোটি এভাবে শেষ হয়নি। এই প্রথমবারের মতো সরকারি ও বিরোধী দল সবাই একমত হওয়া সত্ত্বেও জনগণের চূড়ান্ত অভিপ্রায়কে লঙ্ঘন করা হয়েছে। আমরা অবস্থা মেনে নিইনি, বরং জনগণের সম্মান দেখিয়ে ওয়াকআউট করেছি।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

১১ দলের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পরিকল্পনা

বিরোধীদলীয় নেতা আরও ব্যাখ্যা করেন যে, যেহেতু সংসদের ভেতরে জনগণের দাবি আদায় সম্ভব হয়নি, তাই এখন একমাত্র পথ হলো জনগণের কাছে ফিরে যাওয়া। তিনি বলেন, 'আমরা ১১টি দল নির্বাচনের আগে সুশাসন, ন্যায়বিচার ও দুর্নীতি-দুঃশাসনবিরোধী দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম। এখন সেই দাবিগুলো আদায়ে আমরা দ্রুত একত্রে বসব এবং সিদ্ধান্ত নেব।'

এ সময় এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তাঁর পাশে ছিলেন, যা এই ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংসদ থেকে পদত্যাগ নয়, ওয়াকআউট

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান স্পষ্ট করেন যে, তারা সংসদ থেকে পদত্যাগ করছেন না, বরং ওয়াকআউট করেছেন। তিনি বলেন, 'আমরা সংসদের অংশ এবং জাতির দেওয়া দায়িত্ব পালন করব। ওয়াকআউট মানে গিভ আপ নয়, বরং জনগণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।'

তিনি আরও যোগ করেন, 'কালকেই দেখবেন আমরা কী করি। সংবিধান সংশোধন নয়, আমরা সংস্কার চাই, যাতে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বোঝা থেকে জনগণ মুক্তি পায়।'

শফিকুর রহমানের এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বিরোধী দলগুলো আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক আন্দোলনকে তীব্রতর করার পরিকল্পনা করছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।