ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন গ্রহণ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তিন আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জে হাইকোর্টে আবেদন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন গ্রহণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিনটি আসনের ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক তিনটি নির্বাচনী আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর একক অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার (১ এপ্রিল) এ আদেশ দেন। এই আবেদনগুলোর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে।

আবেদনকারী প্রার্থীদের পরিচয়

আবেদনকারী তিন প্রার্থী হলেন: বাগেরহাট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, দিনাজপুর–৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাইনুল আলম, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল হাকিম। এই প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী এলাকায় ভোট গণনায় ব্যাপক অনিয়মের দাবি তুলে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

বাগেরহাট-২ আসনের অভিযোগ ও শুনানি নির্দেশনা

বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, আর বিএনপির প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ৬৬ হাজার ৪০৯ ভোট পান। শেখ জাকির হোসেনের পক্ষের আইনজীবী সাকিব মাহবুব জানান, ভোটে অনিয়ম, অসামঞ্জস্য ও কারচুপিসহ বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। আবেদনে কেন্দ্র থেকে আসা পোলিং শিটে কারও নাম থাকলেও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর নেই, আবার অনেক পোলিং শিটে নাম আংশিকভাবে আছে। এছাড়া কিছু ভোটার দুপুরের মধ্যে বের করে দেওয়া হয়েছে। আদালত শুনানির জন্য আবেদনটি গ্রহণ করেছেন এবং ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনী সরঞ্জামাদি সংরক্ষণ করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছেন। শুনানি হবে ২১ মে তারিখে, যা এই মামলার অগ্রগতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঠাকুরগাঁও-২ ও দিনাজপুর–৩ আসনের ফলাফল ও অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপির মো. আবদুস সালাম ১ লাখ ২১ হাজার ১৭ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হাকিম পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৭০৭ ভোট। দিনাজপুর–৩ আসনে বিএনপির সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ১ লাখ ৩৯ হাজার ২০৭ ভোটে জয়ী হয়েছেন, আর জামায়াতের মাইনুল আলম ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬১৮ ভোট পেয়েছেন। জামায়াতের দুই প্রার্থীর আইনজীবী এম কে শাহনেওয়াজ জানান, উক্ত দুটি আসনের ভোট গণনায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনী আবেদন করা হয়েছে। তারা ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ভোট গণনা এবং আবেদনকারীদের জয়ী ঘোষণার দাবি করেছেন। এই দুই আবেদন শুনানি হবে ১০ জুন তারিখে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

নির্বাচনী আবেদনের আইনি প্রেক্ষাপট

স্মরণযোগ্য, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর যে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হাইকোর্টে নির্বাচনী আবেদন করতে পারেন। প্রধান বিচারপতি গত ১৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একক বেঞ্চকে এসব আবেদন গ্রহণ ও শুনানির দায়িত্ব দিয়েছেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ৩৬ প্রার্থীর ৩৬টি পৃথক আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। অবকাশকালীন ছুটির সময়ে এই বেঞ্চই দেওয়ানি ও নির্বাচনী আবেদন শুনানি নিষ্পত্তির দায়িত্বে রয়েছেন, যা বাংলাদেশের বিচারিক ব্যবস্থার দক্ষতা ও স্বাধীনতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই আবেদনগুলোর মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও জোরদার হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।