প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সংসদীয় প্রশ্নোত্তর: অর্থ পাচার দমনে জোরালো পদক্ষেপ
বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানি লন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
অর্থ পাচার দমনে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তসংস্থা টাস্কফোর্স কর্তৃক চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান। এই মামলাগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারসহ ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত। প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং-চায়না অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাত চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মতি দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, আদালত এ পর্যন্ত ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে। এর মধ্যে দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার সম্পদ অন্তর্ভুক্ত। পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ১৪১টি মামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক প্রভাব
সরকারি দলের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বিস্তার সম্পর্কে জানান। গত ১০ মার্চ ১৩টি জেলার ৩টি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাকি তিন মাসে আরও ৩০ হাজার পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড পরিবারের প্রধান নারী সদস্যকে দেওয়ার মাধ্যমে একদিকে যেমন সহায়তা সরাসরি পরিবারের সদস্যদের খাদ্য, পুষ্টি, চিকিৎসা ও শিক্ষায় ব্যয় হবে, অন্যদিকে নারীর সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পাবে। এতে পরিবারে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, যা সমাজে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করবে।
সরকারের আইনগত দৃষ্টিভঙ্গি ও জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতি
প্রচলিত আইনে শাস্তি সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং প্রচলিত আইন মেনে কাজ করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, যারা দেশের ও জনগণের অর্থ পাচার করেছে, প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের শাস্তি হবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পাচার হওয়া অর্থ জনগণের অর্থ, এবং এটি ফিরিয়ে এনে দেশ ও জনগণের জন্য ব্যয় করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধী দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, বিএনপির প্রতি জনগণের সমর্থন ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ সরকারের পরিকল্পনার প্রতি মানুষের আস্থা প্রমাণ করে। তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, সরকার টাকা ছাপিয়ে সহায়তা দিচ্ছে না, বরং এই টাকা স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যয় হবে, যা কর্মসংস্থান বাড়াবে এবং প্রান্তিক গোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।



