সংসদে আবারও ওয়াকআউট বিরোধী দলের, গণভোট ইস্যুতে প্রতিকার না পেয়ে বিক্ষোভ
সংসদে আবারও ওয়াকআউট বিরোধী দলের, গণভোট ইস্যুতে প্রতিকার না পেয়ে

সংসদে আবারও ওয়াকআউট বিরোধী দলের, গণভোট ইস্যুতে প্রতিকার না পেয়ে বিক্ষোভ

জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে আবারও ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ইস্যুতে আলোচনার দাবিতে দেওয়া নোটিশের প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হওয়ার পর ফ্লোর নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনায় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্পিকারের কাছে প্রতিকার দাবি করে সন্ধ্যা ৫টা ৪৫ মিনিটে সংসদ থেকে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন।

বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্য ও প্রতিকারের দাবি

অনির্ধারিত আলোচনায় সংসদে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, "উনি আমার কথাটা সম্ভবত খেয়াল করেন নাই। তার বক্তব্যে সেটিই বুঝলাম। ইনটেনশনালি উনি বলেছেন, আমি এটা বিশ্বাস করতে চাই না। আমি যা বলেছি, সেটার বাইরে গিয়ে একটা প্রশ্ন গতকাল করেছেন। গতকাল যে এজেন্ডাটা আমরা উত্থাপন করেছিলাম, এটা ছিল মূলত গণভোট এবং গণভোটের সংস্কারের। এর আলোকে যে পরিষদটা গঠন হওয়ার কথা সেই পরিষদের সভা আহ্বান সংক্রান্ত। এটাই ছিল মূল নোটিশের বিষয়।"

তিনি আরও যোগ করেন, "একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটা প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাবের রেসপন্স দিতে গিয়ে আমি বলেছিলাম, যেহেতু আলোচনাটা হয়েছে সংস্কার পরিষদের ওপর, যদি এটাকে কেন্দ্র করে কোনও কমিটি বা বিশেষ কমিটি গঠন হয় তাহলে আমরা ইতিবাচকভাবে সেটা ভেবে দেখবো। একইসঙ্গে বলেছিলাম, সরকারি দল এবং বিরোধী দল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য নিলে অর্থবহ একটা কমিটি হিসেবে রূপ নেবে। যেহেতু আমরা এখানে এসেছি সংকট নিরসনের জন্য, সংকট তৈরির জন্য না।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডা. শফিকুর রহমান স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, "এর উত্তরে তিনি (আইনমন্ত্রী) তার কথা বলেছেন। আমার বক্তব্য যেহেতু আগে হয়ে গেছে, বিষয়টি আমি ক্লারিফাই করলাম। কিন্তু, যেহেতু এটা জন-আকাঙ্ক্ষার বিষয়, গণভোটের বিষয়, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়ের বিষয়, আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, আপনার মাধ্যমেই প্রতিকার পাবো। সিদ্ধান্তের জন্য আমি আপনাকে (স্পিকার) আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু, কোনও সিদ্ধান্ত হলো কি না আমি বুঝতে পারি নাই। এই বিষয়টা আপনার কাছ থেকে আমি স্পষ্ট জানতে চাই।"

স্পিকারের জবাব ও মুলতবি প্রস্তাবের ব্যাখ্যা

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, "কালকের প্রস্তাবটি ছিল একটি মুলতবি প্রস্তাব। যেটি আমার অনুপস্থিতিতে গৃহীত হয়েছিল। বাংলাদেশের ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে মাত্র তিনটি মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। একটি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর, অপরটি ছিল গ্রেনেড হামলা সম্পর্কিত এবং আরেকটি ছিল নূর ইসলাম মনিরের কোস্টগার্ড সম্পর্কিত। বছর পর বছর চলে যায় কোনও মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয় না সংসদে। তারপরও প্রাণবন্ত আলোচনার জন্যে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে মুলতবি প্রস্তাবটি নেওয়া হয়েছিল। আপনি জানেন, যেই সমস্যার সমাধান আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই কেবল করা যেতে পারে সেটি নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব হতে পারে না। তারপরও উদারভাবে বিরোধী দলকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্যে এটি নেওয়া হয়েছে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "আরও একটি কথা আমি বলতে চাই, এই সম্পর্কিত আরও একটি নোটিশ, আরও একটি মুলতবি প্রস্তাবের নোটিশ আজকে আমরা বিবেচনা করবো। আপনাদের মধ্যে যদি কোনও কথা বলার বাকি থাকে, আমি বলেছিলাম, বাকি কথা আগামীকাল হবে। আজকেও যদি প্রয়োজন হয় সেই নোটিশটি সম্পর্কে যখন আলাপ-আলোচনা করবো, আপনাদের আরও যদি বক্তব্য থাকে, কথা বলার অবারিত সুযোগ আপনারা পাবেন। এটি একটি জাতীয় সমস্যা। যত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে আমরা আশা করি, ট্রেজারি বেঞ্চ এবং বিরোধী দল মিলে খোলাখুলিভাবে কথাবার্তা বলে সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনার মাধ্যমে আপনারা সিদ্ধান্ত নিবেন সেই সুযোগ আপনাদের রয়েছে। এটি মহান হাউজ অফ দ্য পিপল। আপনারাই ডিসাইড করবেন রুলস অফ প্রসিডিউর অনুসারে আমরা যাতে পরিচালিত হতে পারি।"

ওয়াকআউটের ঘোষণা ও চূড়ান্ত বিতর্ক

স্পিকারের উদ্দেশে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, "প্রতিকার চেয়েছিলাম। এ বিষয়টা কোনও দলের সঙ্গে সম্পর্কিত না। যে বিষয়টা নির্বাচনের আগে সরকারি দল বিরোধী দল সবাই একমত হয়েছিলেন, এর সপক্ষে কথাও বলেছেন, ক্যাম্পেইন করেছেন। আমরা প্রতিকার যে পেলাম না, এতে দেশবাসীর রায়ের প্রতিফলন হলো না, তাদের মূল্যায়ন হলো না। আমরা বিরোধী দলে বসে এই অবমূল্যায়ন মেনে নিতে পারি না। এ কারণে তার প্রতিবাদে আমরা ওয়াকআউট করছি।"

জবাবে স্পিকার বলেন, "আপনি আমার বক্তব্য তো সম্পূর্ণ করতে দিলেন না। আমি আপনার পুরা বক্তব্য শুনেছি। ওয়াকআউট করা আপনাদের অধিকার। কিন্তু, আমি বলতে চাই, আজকে একটু পরে আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব বিবেচিত হবে। আমার মনে হয়, সেখানে আপনি আপনাদের প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন এবং সেখানে মন খুলে কথা বলতে পারবেন। সুতরাং, আমার অনুরোধ হলো আপনারা ওটা শুনেন। তারপর ওয়াকআউট করতে পারেন। আগে প্রস্তাবটির ভাগ্য কি নির্ধারণ হয় সেটি দেখার জন্য একটু অপেক্ষা করে দেখতে পারেন। বিরোধী দলের নেতাকে মাইক দেন।"

স্পিকারের এই কথার পর বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, "ওই নোটিশটাও আমাদের নজরে কিছুটা এসেছে। আমরা মনে করি, মূল নোটিশকে চাপা দেওয়ার জন্য ওই নোটিশটা সামনে আনা হয়েছে। এ কারণে দুইটার প্রতিবাদেই আমরা এই সংসদ থেকে আপাতত ওয়াকআউট করছি।"

এর জবাবে হাফিজ উদ্দিন বলেন, "নোটিশই তো উত্থাপন হয় নাই, আপনি কি করে বুঝলেন কোনটা চাপা দেওয়ার জন্য এটা করা হচ্ছে? আমি অনুরোধ করছি, একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন। নোটিশের বিষয়বস্তু শুনেন। তারপর আপনারা ফিল ফ্রি টু ওয়াকআউট।"

জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "মাননীয় স্পিকার, আপনার অ্যাবসেন্সে এই হাউসে নোটিশটা পড়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সদস্য এটা পড়েছেন আমরা শুনেছি। এ কারণে আমরা বুঝে শুনেই বলছি, এই দুই কারণেই আমরা এখন ওয়াকআউট করছি।"

এই বিতর্কের পর বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করে বেরিয়ে যান, যা জাতীয় সংসদে রাজনৈতিক উত্তেজনার আরেকটি অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।