চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ছাত্রদল নেতার বাড়িতে গুলি, আহত দুই
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কাঞ্চনা এলাকায় রাতের আঁধারে ছাত্রদলের এক নেতার বাড়িতে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় আহত দুই ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণ ও আহতদের অবস্থা
গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে কাঞ্চনা ইউনিয়নের কবির বাড়ি এলাকায় এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন ছাত্রদলের একটি ওয়ার্ড শাখার সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ রাকিব এবং ইউনিয়ন শাখার সাবেক সভাপতি মো. শফিক। মো. রাকিবকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মো. শফিক স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ছাত্রদল নেতা মো. মহসিন, যিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং এই বাড়ির মালিক, তিনি জানান যে ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর মতে, কাঞ্চনা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু তাহেরের নেতৃত্বে জামায়াত–শিবিরের কর্মীরা তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে দফায় দফায় গুলি চালিয়েছেন। তাঁকে না পেয়ে হামলাকারীরা তাঁর সহযোগীদের ওপর হামলা চালায়, যা আহতদের অবস্থার কারণ হয়েছে।
রাজনৈতিক পটভূমি ও অভিযোগ-প্রত্যাখ্যান
হামলার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মো. মহসিন উল্লেখ করেছেন যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী প্রত্যাশিত ভোট পাননি। এর ফলে জামায়াত নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তবে, কাঞ্চনা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবু তাহের এই অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন যে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দল তাঁকে প্রার্থী করতে পারে, এমন সম্ভাবনা থেকে বিএনপির একটি অংশের নেতা-কর্মীরা তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন। আবু তাহের আরও দাবি করেছেন যে অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন এবং হামলাকারীরা নিজেরাই বাজি ফাটিয়ে জামায়াত-শিবিরের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও পুলিশি তদন্ত
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ফরহাদ জানান, মধ্যরাতে বিকট শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যা গুলি বা আতশবাজির শব্দ হতে পারে। তবে কারা এবং কী কারণে হামলা করেছে, তা নিশ্চিত নয়। তিনি উল্লেখ করেছেন যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা এই হামলার পিছনে কারণ হতে পারে।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানিয়েছেন যে এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
এই ঘটনা চট্টগ্রাম বিভাগের সাতকানিয়া উপজেলায় রাজনৈতিক সহিংসতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয় সম্প্রতি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।



