জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের বৈঠক: জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে আলোচনা
জাতীয় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বেলা ১১টায় এই বৈঠক শুরু হয়, যেখানে বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও শপথ গ্রহণের গুরুত্ব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের এই বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বৈঠকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়, যা সনদ বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের এই শপথ গ্রহণ না করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
জামায়াতের দুইজন সংসদ সদস্য জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতেই হবে, কারণ সনদে বিষয়টির স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। তবে, সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা সেই শপথ গ্রহণ করেননি। সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বিষয়টি উত্থাপন করলে, স্পিকার একটি নোটিশ দিতে বলেন। সেই নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং আজকের বৈঠকে এটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
সংসদ সদস্যদের বক্তব্য
ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান) মুঠোফোনে বলেন, "ঈদের আগে বিরোধী দলীয় নেতা সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারি দলের সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। তখন স্পিকার বিরোধী দলকে এ বিষয়ে নোটিশ দিতে বলেছিলেন। আজ সে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন, স্পিকার নোটিশ গ্রহণ করলে সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে, এবং আজকের বৈঠকে কীভাবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, "আজকের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সে প্রেক্ষিতে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়া নিয়ে কথা উঠেছে। এ বিষয়ে বিরোধী দল থেকে আজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এটি নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে।"
বৈঠকের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
বৈঠকে নোটিশ গ্রহণ করা হলে কোন কোন পয়েন্টে বিরোধী দল কথা বলবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। স্পিকার চাইলে নোটিশ গ্রহণ নাও করতে পারেন, তবে সে ক্ষেত্রে তিনি কোন গ্রাউন্ডে সেটি গ্রহণ করলেন না, সেটি জানাতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বৈঠকটি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের ভূমিকা সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূচনা করেছে।



