জামায়াত আমিরের বক্তব্য সত্য: কর্নেল অলি আহমদের আহ্বান ও ঐতিহাসিক দলিলের প্রমাণ
জামায়াত আমিরের বক্তব্য সত্য: কর্নেল অলির আহ্বান

জামায়াত আমিরের বক্তব্য সত্য বলে দাবি কর্নেল অলি আহমদের

লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘আমি যখন দেশ স্বাধীন করার জন্য বিদ্রোহ করেছি, তখন সংবিধান মেনে বিদ্রোহ করিনি। কারণ সংবিধান মেনে কখনো বিদ্রোহ হয় না।’ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াত আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

শফিকুর রহমানের বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে চট্টগ্রামে এক নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছিলেন, ‘একাত্তর সালে চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এসেছিল। এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ সবার আগে চিৎকার দিয়ে বলেছিলেন ‘উই রিভল্ট’। তিনি জিয়াউর রহমানকে হাতে ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।’ এই বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

দলিলের প্রমাণের দিকে ইঙ্গিত

কর্নেল অলি আহমদ সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, ‘জামায়াত আমির বলেছিলেন, ‘উই রিভল্ট’ কর্নেল অলি বলেছিল। এটা নিয়ে অনেকের গায়ে জ্বলন ধরেছিল। জিয়াউর রহমান নিজেই এসিআরে (অ্যানুয়াল কনফিডেনশিয়াল রিপোর্ট) এ বিষয়ে বলে গিয়েছিলেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই ডকুমেন্টগুলো তো আর্কাইভ করা আছে। একদম যদি ইংরেজি লেখাপড়া করতে না জানো, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ইংলিশের প্রফেসরকে নিয়ে যাও এগুলো পড়ার জন্য। অসুবিধাটা কোথায়?’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে প্রমাণ দেখানোর প্রস্তাব

কর্নেল অলি আহমদ স্পষ্টভাবে জানান, ‘আর যদি ওখানে অসুবিধা হয়, আমার ঘরে আসো অরিজিনাল এসিআর তো আমি রেখে দিছি। আমি তো ও রকম বোকা লোক না। আমি যখন চাকরি ছেড়েছি, অরিজিনাল এসিআরগুলো আমি সাথে নিয়ে আসছি। আমার ঘরে আসো, বিনা পয়সায় দেখায়া দেব।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘সুতরাং আমিরকে (শফিকুর রহমান) টিটকারি না মেরে এটা গ্রহণ করো। সত্যকে গ্রহণ করা একজন মানুষের কাজ। এটা অস্বীকার করে বেশি দিন টিকতে পারবে না।’

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর পার হলেও জিয়াউর রহমানের শাসনামল ছাড়া অন্য কোনো শাসনকালে দলীয়করণ বন্ধ ছিল না বলে মন্তব্য করেন কর্নেল অলি আহমদ। তার এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।

এই আলোচনা সভায় কর্নেল অলি আহমদের বক্তব্য শফিকুর রহমানের পূর্বের মন্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে, পাশাপাশি ঐতিহাসিক দলিলের গুরুত্বের উপর জোর দেয়। তার আহ্বান ছিল সত্যকে গ্রহণ করা এবং অপ্রয়োজনীয় সমালোচনা এড়িয়ে চলা।