স্বাধীনতা দিবসে গীতা পাঠ নিষেধের অভিযোগ: জামায়াতের তীব্র প্রতিবাদ
রাজশাহী জেলা জামায়াতে ইসলামী মহান স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে 'গীতা পাঠ না রাখার' নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে দলটি একটি বিবৃতি প্রকাশ করে এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।
বিবৃতিতে কী বলা হয়েছে?
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, 'বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত 'স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচিতে গীতা পাঠ না রাখার নির্দেশ জামায়াত নায়েবে আমিরের' শীর্ষক সংবাদে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির উদ্ধৃতি ব্যবহার করে যে তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।' দলটি এই সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং দাবি করে যে সংসদ সদস্য কোনো স্থানে এ ধরনের বক্তব্য প্রদান করেননি।
জেলা নেতাদের বক্তব্য
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেক এবং সেক্রেটারি মো. গোলাম মুর্তজা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, 'যাচাই-বাছাই ব্যতীত এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিমালার পরিপন্থি এবং এটি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা।' তারা আরও যোগ করেন যে স্বাধীনতা দিবস জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও মর্যাদার প্রতীক, এবং এ দিবসকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ কাম্য নয়।
সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান
বিবৃতিতে দলটি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে অবিলম্বে এই সংবাদের সংশোধন, দুঃখপ্রকাশ ও প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। সব গণমাধ্যমের প্রতি বস্তুনিষ্ঠতা, সত্যনিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করার অনুরোধও করা হয়েছে।
এই ঘটনাটি রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যখন জাতীয় অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। জামায়াতের এই প্রতিবাদ দলটির অবস্থান স্পষ্ট করার পাশাপাশি গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতার প্রশ্নও তুলে ধরেছে।



