রুমিন ফারহানা: বিএনপি ছাড়াই সংসদে, যা বললেন আয়রন লেডি
রুমিন ফারহানা: বিএনপি ছাড়াই সংসদে, যা বললেন

রুমিন ফারহানা: বিএনপি ছাড়াই সংসদে, যা বললেন আয়রন লেডি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে তার অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক পথচলা নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেছেন। তিনি হাঁস প্রতীনে ৫০ হাজার ৫৭৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ৩২ হাজার ৫৭৯ ভোট পান।

দ্বিতীয়বার সংসদে, কিন্তু প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে

রুমিন ফারহানা এবারই প্রথম সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হয়েছেন, যদিও একাদশ সংসদে তিনি বিএনপির সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও টেলিভিশন টকশোতে তার সক্রিয় উপস্থিতি তাকে 'আয়রন লেডি' খেতাব এনে দিয়েছে। একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে তিনি বিএনপির সঙ্গে তার সম্পর্ক, সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

বিএনপি থেকে বহিষ্কার ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস

রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন যে, ১৭ বছর ধরে বিএনপির হয়ে সংসদে সক্রিয় থাকার পরও দলটি তাকে মনোনয়ন না দিয়ে বহিষ্কার করেছে। তিনি বলেন, 'এ জয়টা আমি আল্লাহর কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছি। আমি আল্লাহকে বলেছি, আমাকে লজ্জিত করবেন না।' তিনি আরও যোগ করেন যে, সংরক্ষিত কোটা বা আলোচনার মাধ্যমে সহজেই সংসদে যাওয়া বা মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি মর্যাদার লড়াই বেছে নিয়েছেন। নির্বাচনের দিন তিনি সারাক্ষণ দোয়া ও দরুদ পড়েছেন বলে জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ ও কৃতজ্ঞতা

তিনি বিএনপির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দলটি তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি সারা বাংলাদেশের মানুষের দোয়ার অংশ হয়ে গিয়েছিলেন। 'বাংলাদেশের নারীরা, যে যেই দল বা মতের হন, তারা আমার জন্য দোয়া করেছেন,' বলেন রুমিন। ভোটের আগে তিনি যেখানেই গেছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে দ্রুত সখ্য গড়ে উঠেছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, শপিং মলের ওয়াশরুম ক্লিনার পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতেন, যা তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।

বহিষ্কারের কারণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিএনপি কেন তাকে বহিষ্কার করলো এমন প্রশ্নের জবাবে রুমিন বলেন, 'প্রথমত এটার উত্তর আমার জানা নেই। সঠিক উত্তর কেবল যারা মনোনয়ন দিয়েছেন তারাই বলতে পারবেন।' তিনি মন্তব্য করেন যে, হয়তো এটি একটি আবেগীয় সিদ্ধান্ত ছিল, যা অনেককে বিরক্ত করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় রয়েছেন এবং তিনিই বলতে পারবেন কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্নেহধন্য হওয়া সত্ত্বেও এই সিদ্ধান্তের কারণ তিনি প্রধানমন্ত্রীকেই জিজ্ঞাসা করার পরামর্শ দেন।

বহিষ্কারের খবর ও শোকের সময়

রুমিন ফারহানা জানান, তিনি সংবাদপত্রে দেখে জানতে পারেন যে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। 'ওইদিন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ভোরে মারা যান, এবং আমি বিকাল ৫টায় নিউজে দেখলাম যে আমি বহিষ্কৃত,' বলেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন যে, শোকের সময় সাধারণত এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না, কিন্তু বিএনপি তা করেছে।

নতুন সংসদ ও আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি

ত্রয়োদশ সংসদ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, তার অভিজ্ঞতা খারাপ ছিল না, তবে তিনি মনে করেন যে এই সংসদে আওয়ামী লীগের মতো বড় দল এবং বাম দলগুলো অনুপস্থিত থাকায় জনগণের একটি বড় অংশ বাদ পড়েছে। 'আগের সংসদগুলোতে জনগণের এক-তৃতীয়াংশ বা অর্ধেক বাইরে রাখা হতো, এবার মনে হচ্ছে অন্তত এক-তৃতীয়াংশকে বাইরে রাখা হয়েছে,' বলেন তিনি। তিনি আরও যোগ করেন যে, নতুন ও দীর্ঘদিন সংসদের বাইরে থাকা সদস্যদের কারণে কিছু ছোটখাটো ভুল হয়েছে, এবং সবাইকে খাপ খাইয়ে নিতে আরও সময় লাগবে।

রুমিন ফারহানার এই সাক্ষাৎকার রাজনৈতিক অঙ্গনে তার দৃঢ় অবস্থান ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগের গল্প তুলে ধরে, যা তাকে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছে।