রাজশাহীতে ফিলিং স্টেশন মালিকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে গালি দেওয়ার অভিযোগ
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার হাটগাঙ্গোপাড়ায় অবস্থিত মেসার্স গাঙ্গোপাড়া ফিলিং স্টেশনের মালিক সারোয়ার জাহান সবুজের বিরুদ্ধে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়াকে গালি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগটি তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে উত্থাপিত হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগের বিবরণ ও পুলিশের তদন্ত
বাগমারা উপজেলার গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি দাবি করেন, রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় তিনি, ইউনিয়ন কৃষক দলের ক্রীড়া সম্পাদক শফিকুল ইসলাম এবং আউচপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী আনোয়ার হোসেন মোটরসাইকেলে তেল নিতে ওই ফিলিং স্টেশনে যান। সেখানে পাম্পের মালিক সবুজ তেল না থাকার কথা জানালে, তারা ফিরে যাওয়ার সময় সবুজ বর্তমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম জানিয়েছেন, "পাম্প মালিকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ হয়েছে। এটা ধর্তব্য অপরাধ না হওয়ায় আদালতের অনুমতি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে হয়। আমরা সে প্রক্রিয়ায় যাচ্ছি, পাশাপাশি প্রাথমিক তদন্তও চলছে।"
মালিকের প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ
ফিলিং স্টেশনের মালিক সারোয়ার জাহান সবুজ অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "আমার বাবা নুরুল ইসলাম নরদাশ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। আমার রক্তে বিএনপি। আমি কোনো গালাগাল করিনি। তারা এসে চারটি মোটরসাইকেলে ২০ লিটার তেল চান, যা দেওয়া সম্ভব ছিল না। আমি গায়ে হাত দিয়ে বুঝিয়েছি, কিন্তু তারা তেল না পেয়ে মিথ্যা কথা বলছেন।"
সবুজ আরও দাবি করেন, "এখন তারা আমাকে এভাবে প্যারা দিচ্ছে যাতে কিছু টাকা-পয়সা আদায় করা যায়। আসলেই আমি গালিগালাজ করিনি, এবং এর ভিডিও প্রমাণ আছে।"
অভিযোগকারীর জবাব ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
অভিযোগকারী আশরাফুল ইসলাম সবুজের দাবিকে মিথ্যা আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা তো একটা মোটরসাইকেলেই তিনজন ছিলাম, এবং একটা গাড়িতে ২০ লিটার তেল ধরে না। টাকা দাবি করারও প্রশ্নই ওঠে না। পাম্প মালিক মিথ্যা বলছেন এবং তিনি আওয়ামী লীগের দোসর। এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের ঘনিষ্ঠ। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসনের সময় সবুজ বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলাসহ নানাভাবে হয়রানি করেছেন।"
এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে তেলের সংকট ও ব্যক্তিগত বিবাদ মিশে গেছে। পুলিশের তদন্ত চলমান থাকায়, ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।



