প্রধানমন্ত্রীর ফোনে সাংবাদিক আনিস আলমগীরের সঙ্গে আলোচনা
সদ্য কারামুক্ত হওয়া সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে টেলিফোন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যায় এই টেলিফোন আলাপে প্রধানমন্ত্রী তাকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং দেশ গড়তে তার সহযোগিতা কামনা করেন। বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিজেই নিশ্চিত করেছেন আনিস আলমগীর।
আলোচনার বিবরণ
আনিস আলমগীর বলেন, "আজ (শনিবার) সন্ধ্যায় আমাকে টেলিফোন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে আমি বিস্মিত হয়েছি। পরবর্তীতে তার সঙ্গে অনেক আলাপ হয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "এ সময় আমি তাকে জানিয়েছি, সরকারের ইতিবাচক কাজের সঙ্গে থাকবে। আবার গঠনমূলক সমালোচনা করবো।"
আলোচনায় আনিস আলমগীর প্রধানমন্ত্রীকে জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের ঘটনাটি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, "তারেক রহমানকে জানিয়েছি, এটি সম্প্রীতির বাংলাদেশের নিদর্শন, যা ড. ইউনূসের আমলে অনুপস্থিত ছিল।"
আনিস আলমগীরের কারামুক্তির পটভূমি
আনিস আলমগীরের সাম্প্রতিক কারামুক্তির আগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেদিন মধ্যরাতে 'জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স' নামে একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদের করা মামলায় আনিস আলমগীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযোগ আনা হয়।
পরদিন ১৫ ডিসেম্বর তাকে উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার করা হয়। তারপর তাকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ৫ মার্চ উচ্চ আদালত তাকে জামিন দেন।
দুদকের মামলা ও পরবর্তী ঘটনা
গত ১৫ জানুয়ারি দুদক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। এই মামলায় তার বিরুদ্ধে তিন কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। ২৫ জানুয়ারি এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে দুদক এবং আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
গত ১১ মার্চ দুদকের মামলায় আনিস আলমগীর জামিন পান এবং ১৪ মার্চ তিনি কারামুক্তি লাভ করেন। এই কারামুক্তির পরেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টেলিফোন আলাপটি ঘটে, যা রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।



