জাতীয় সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের শোক প্রস্তাব: ফয়জুল হাকিমের প্রত্যাখ্যান ও প্রত্যাহারের দাবি
যুদ্ধাপরাধীদের শোক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ফয়জুল হাকিমের

জাতীয় সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের শোক প্রস্তাব নিয়ে ফয়জুল হাকিমের প্রতিবাদ

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ফয়জুল হাকিম জানিয়েছেন, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের জন্য জাতীয় সংসদে গৃহীত শোক প্রস্তাব জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি রবিবার (১৫ মার্চ) এক বিবৃতিতে এই শোক প্রস্তাব অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি তুলে ধরেন।

ফয়জুল হাকিমের বিবৃতির মূল বক্তব্য

বিবৃতিতে ফয়জুল হাকিম বলেন, “যদিও শেখ হাসিনার আমলে ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের বিচার প্রক্রিয়ায় সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে সে সময় প্রশ্ন উঠেছিল। আমরা মনে করি প্রত্যেকেরই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু অভিযুক্তদের অপরাধ সেজন্য তামাদি হয়ে যায় না। কারণ তারা ছিলেন ফ্যাসিস্ট পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গণহত্যার সহযোগী।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জনগণ ন্যায়বিচার বা ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সচেতনভাবে জীবন উৎসর্গ করেছিল। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের জন্য শোক প্রস্তাব গ্রহণ করে জাতীয় সংসদ জনগণের ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।”

প্রত্যাহারের জোরালো দাবি

ফয়জুল হাকিমের মতে, এই শোক প্রস্তাব যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি সহানুভূতির প্রকাশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধীদের জন্য গৃহীত শোক প্রস্তাব প্রত্যাহার করতে হবে।” তার এই বক্তব্যে জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।

এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি বিতর্কিত ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। ফয়জুল হাকিমের বিবৃতি যুদ্ধাপরাধ বিচার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সক্রিয় গোষ্ঠীগুলোর অবস্থানকে প্রতিফলিত করছে।