তেরোতম সংসদের প্রথম অধিবেশন ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে, ৫০ ঘণ্টা বরাদ্দ রাষ্ট্রপতির ভাষণ আলোচনায়
তেরোতম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। শনিবার সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে সংসদীয় ব্যবসায় উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। বৈঠকটিতে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা
সংসদ সচিবালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকটিতে প্রধানমন্ত্রী ও সভার নেতা তারেক রহমান অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, এটিএম আজহারুল ইসলাম, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, মুহাম্মদ নওশাদ জামির এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও বৈঠকে অংশ নেন। কমিটি সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সময় বরাদ্দ ও মেয়াদ নিয়ে আলোচনা করে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনা, দৈনিক বৈঠক বিকাল ৩টায়
বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য মোট ৫০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হবে। সরকারি ছুটির দিন বাদ দিয়ে প্রতিদিন বিকাল ৩টায় সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে অধিবেশনের সময়সূচি বা মেয়াদে যেকোনো পরিবর্তন করার ক্ষমতা স্পিকারের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এই অধিবেশনের জন্য মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন জমা পড়েছে, যার মধ্যে আটটি প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর জন্য এবং ৪৬০টি প্রশ্ন অন্যান্য মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত। এছাড়াও, ৭১ নম্বর বিধির অধীনে মনোযোগ আকর্ষণের জন্য ২৭টি নোটিশ এবং ১৩১ নম্বর বিধির অধীনে প্রস্তাবের জন্য ৯৭টি নোটিশ গৃহীত হয়েছে।
সচিব কানিজ মৌলা দিয়েছেন সচিবালয় সহায়তা
বৈঠকটিতে সচিব কানিজ মৌলা সচিবালয় সহায়তা প্রদান করেন এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণও উপস্থিত ছিলেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তেরোতম সংসদের কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে শুরু করেছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।
সংসদীয় এই প্রক্রিয়াটি দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অধিবেশন চলাকালীন বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে বলে ধারণা করা হয়।
