সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য: 'স্ববিরোধিতা কেন?'
সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্ন

সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জোরালো প্রশ্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ চলাকালে বিরোধী দলের ওয়াকআউট ও প্রতিবাদের ঘটনায় স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) বিকালে সংসদ অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন।

'স্ববিরোধিতা কেন?' - স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর প্রশ্ন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'এই রাষ্ট্রপতিই ৫ ও ৬ আগস্ট বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং তার কাছেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছেন। তাদের দলের দু-একজন সদস্য এই সংসদেও আছেন। তাহলে এখন এই বিরোধিতা কেন?'

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, 'যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তারা ৫ আগস্টের বিকাল বেলা এবং ৬ আগস্ট আলাপ-আলোচনা করেছেন, যাদের উপস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নিয়েছে– সেই রাষ্ট্রপতিকে আজ কেন অস্বীকার করা হচ্ছে? তাদের দলের দু-একজন তো এ সংসদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। এ স্ববিরোধিতা কেন, সেটা তাদেরই জিজ্ঞেস করা উচিত।'

ওয়াকআউটকে 'স্বাভাবিক সংস্কৃতি' বলে মন্তব্য

তবে সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউটকে একটি স্বাভাবিক সংস্কৃতি হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে ওয়াকআউট নতুন কোনো ঘটনা নয়, তারা এটি করতেই পারেন।' সংসদ কেমন হবে–এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, 'অবশ্যই সংসদ অর্থবহ হবে। এটি হবে জাতীয় সব সমস্যা ও ইস্যুর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আমরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে হাঁটব। ফ্যাসিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে, সেই ঐক্য আমরা ধরে রাখব এবং জাতীয় যে কোনো ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাব।'

অধিবেশনে বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদ

এর আগে, বিকালের অধিবেশনে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ যখন রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার আহ্বান জানান, তখনই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন। তাদের হাতে ছিল 'জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না' এবং 'গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়' – এমন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড। হট্টগোলের একপর্যায়ে তারা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।

বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদ থেকে বের হয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন, 'জুলাই হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রপতি নীরব ছিলেন এবং তিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী ছিলেন। তাই সংসদে তার ভাষণ দেওয়ার নৈতিক অধিকার নেই।'

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও সরকারকে অভিনন্দন

বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার লিখিত ভাষণ পাঠ করেন। তিনি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার দল বিএনপিকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং সরকারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে এই বিতর্ক আগামী দিনগুলোতেও চলমান থাকবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।