বাংলাদেশ নারী হকি দলের এশিয়ান গেমস বাছাইপর্বে প্রথম অংশগ্রহণের ঐতিহাসিক অভিযান বুধবার জাকার্তায় ফাইনালে চীনা তাইপের কাছে ৩-১ গোলে পরাজিত হয়ে শেষ হয়েছে। রুপালি পদক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। তবে এটি ছিল তাদের জন্য একটি মাইলফলক টুর্নামেন্ট।
এয়ারিন রিয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্স
এয়ারিন রিয়া প্রতিযোগিতায় যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে পাঁচটি গোল করেন, যার মধ্যে সেমিফাইনালে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুটি গোল ছিল। তার এই নৈপুণ্য দলকে ফাইনালে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অধিনায়ক আরপিতা পানের নেতৃত্ব
অধিনায়ক আরপিতা পাল ফাইনালে বাংলাদেশের একমাত্র গোলটি করেন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি চারটি গোল করেন, যার মধ্যে গ্রুপ পর্বে একটি হ্যাটট্রিক অন্তর্ভুক্ত ছিল। তার নেতৃত্বে দলটি অসাধারণ সংহতি প্রদর্শন করে।
প্রথমবারের মতো সিনিয়র আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট
এই বাছাইপর্বটি ছিল বাংলাদেশের নারী হকি দলের প্রথম সিনিয়র আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। উদ্বোধনী ম্যাচে তারা চীনা তাইপের সাথে ড্র করে। দ্বিতীয় ম্যাচেই তারা উজবেকিস্তানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে প্রথম জয় পায়। পরবর্তী গ্রুপ ম্যাচে হংকং, চীনকে ২-১ গোলে পরাজিত করে এশিয়ান গেমসের জন্য প্রথমবারের মতো যোগ্যতা অর্জন করে।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে সিঙ্গাপুরকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে। এই অসাধারণ অগ্রযাত্রা নারী হকিতে একটি ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ফাইনালের ঘটনা
আরপিতা ও তার দল ফাইনালে প্রথম কোয়ার্টারে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে এগিয়ে যায়। তবে চীনা তাইপ শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে তিনটি গোল করে স্বর্ণপদক নিশ্চিত করে।
এশিয়ান গেমসে প্রথম অংশগ্রহণ
ফাইনালের ফলাফল যাই হোক না কেন, বাংলাদেশের মিশন ইতিমধ্যেই সফল। আগামী সেপ্টেম্বরে জাপানে অনুষ্ঠিত ২০তম এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো অংশ নেবে বাংলাদেশ নারী হকি দল।
যুব পর্যায়ের প্রতিভা
দলটি মূলত বিএসপির অনূর্ধ্ব-২১ খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত। রিয়া ও আরপিতা পূর্বে যুব জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রতিভা প্রমাণ করেছেন।



