প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার এখন থেকে নিরপেক্ষ, কোনো দলের নন
প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার এখন থেকে নিরপেক্ষ

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক আহ্বান

জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের জন্য সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন। সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আজ থেকে আপনারা আর কোনো দলের নয়। আপনারা এই সংসদের স্পিকার।" এই বক্তব্য সংসদীয় গণতন্ত্রে নিরপেক্ষতার গুরুত্বকে নতুন করে তুলে ধরেছে।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন ও পদত্যাগ

অধিবেশনের শুরুতেই সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সময়ে ডেপুটি স্পিকার পদে শপথ নেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পরপরই হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি সরাসরি ঘোষণা দেন যে, নিরপেক্ষতার খাতিরেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

স্পিকারের প্রথম বক্তব্য ও বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া

বিরতির পর স্পিকার হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার প্রথম বক্তব্যে বলেন, "রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হবে জাতীয় সংসদ।" এরপর বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে সংসদের ইতিহাসের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, "আজকের এই সংসদ চব্বিশের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সংসদ। এই দেশের সংসদ ও সংসদীয় রাজনীতি খুব কম সময় কার্যকর ছিল। বেশিরভাগ সময়ে এই সংসদ ছিল ডামি সংসদ।"

শফিকুর রহমান আরও যোগ করেন, "হাফিজ উদ্দিনের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি ইতোমধ্যে বিএনপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এখন আপনি সবার। আমরা মনে করি, আপনার কাছে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলাদা কিছু হবে না।" এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিরোধী দল নতুন স্পিকারের নিরপেক্ষতার প্রতি তাদের প্রত্যাশা প্রকাশ করে।

সংসদীয় প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

ত্রয়োদশ সংসদের এই প্রথম অধিবেশন নিম্নলিখিত বিষয়গুলো তুলে ধরেছে:

  • প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি আহ্বানের মাধ্যমে সংসদীয় নিরপেক্ষতার নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে।
  • স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগ ও তার ঘোষণা রাজনৈতিক দলীয় আনুগত্য থেকে সরে আসার একটি স্পষ্ট সংকেত।
  • বিরোধী দলের বক্তব্যে সংসদের ঐতিহাসিক দুর্বলতা ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশা ফুটে উঠেছে।

এই অধিবেশনটি ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় এবং এটি জাতীয় সংসদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য ও স্পিকারের পদত্যাগ সংসদীয় গণতন্ত্রে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।