ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ: রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে সরকার-বিরোধীদলের দ্বন্দ্ব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার বসছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে। এই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ নিয়ে সরকারি ও বিরোধীদল মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে, যা সংসদীয় কার্যক্রমের শুরুতেই উত্তপ্ত বিতর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে দ্বন্দ্ব
সরকারি দল দাবি করছে যে, প্রথা অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন, যা সংসদীয় রীতিনীতির অংশ। তবে বিরোধীদলীয় নেতারা এই দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন, রাষ্ট্রপতির সংসদে ভাষণ দেওয়ার কোনো সাংবিধানিক অধিকার নেই। বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, 'অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেয়ার কোনো অধিকার নেই। কিন্তু বিএনপি কী কারণে এ কাজটি করছে, তা বোধগম্য নয়।'
বিরোধীদলের অবস্থান ও দাবি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংসদে সরকারি দল বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ ও পুরনো রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে বলে দাবি করেছেন। এদিকে, জামায়াত দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে চায় বলে নেতারা উল্লেখ করেন, বাধ্য না হলে কোনো বিষয় আদালত পর্যন্ত নেওয়া হবে না। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'দায়িত্বশীল বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করবে জামায়াত। সবকিছুতে বিরোধিতা নয়; আবার না বুঝে সমর্থনও নয়।'
সংসদের নতুন যাত্রা ও প্রত্যাশা
দেশে বহু বছর কার্যকর সংসদের অভাব মানুষ হাড়ে হাড়ে অনুভব করেছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে। একতরফা সরকার, গৃহপালিত বিরোধী দল ও আংশিক নির্বাচনের কারণে জাতীয় সংসদ প্রায় অকার্যকর ছিল। তবে গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে দীর্ঘদিন পর প্রাণ ফিরছে সংসদে। এবারের গণতান্ত্রিক যাত্রায় জাতীয় সংসদে নেতৃত্ব দিচ্ছে অভিজ্ঞ বিএনপি, আর প্রথমবারের মতো বিরোধী দলের ভূমিকায় জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রদের নেতৃত্বে গঠিত দল এনসিপি।
সবার আশা, সংসদ সদস্যরা প্রাণবন্ত সংসদ উপহার দেবেন এবং জনপ্রত্যাশা পূরণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নতুন মাইলফলকে পৌঁছাবে। এই অধিবেশনটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে সুস্থ বিতর্ক ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



