রংপুরে এনসিপির ইফতার মাহফিলে ছাত্রশক্তি-যুবশক্তির সংঘর্ষ, আহত ৫ নেতাকর্মী
রংপুরে এনসিপির ইফতারে সংঘর্ষ, আহত ৫

রংপুরে এনসিপির ইফতার মাহফিলে সংঘর্ষ: আহত পাঁচ নেতাকর্মী

রংপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে দলীয় ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির নেতাদের মধ্যে সংঘর্ষের তীব্র অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলে সংঘটিত হামলায় যুবশক্তির পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিন নেতাকর্মী

যুবশক্তির নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে তিনজনকে বেসরকারি কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আরও দুইজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জেলা যুবশক্তির সংগঠক লেমন শাহ, রাশেদুজ্জামান এবং মহানগর যুবশক্তির সংগঠক মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহ শাহ ফকির।

ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগ-প্রত্যাখ্যান

এনসিপির রংপুর মহানগর কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর নয়নের অভিযোগ, স্টেডিয়াম প্রবেশ ফটকে ছাত্রশক্তির নেতারা যুবশক্তির কয়েকজন নেতাকর্মীকে ঢুকতে বাধা দেন। এরপর ছাত্রশক্তির মহানগর কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ফারহান তানভীর ফাহিম ও যুগ্ম আহ্বায়ক রাজিমুজ্জামান হৃদয়সহ কয়েকজন তাকে ধাক্কা মারেন এবং যুবশক্তির নেতাদের মারধর করা হয়।

তবে ছাত্রশক্তির মহানগর আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহম্মদ ও ফারহান তানভীর ফাহিম এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "নিজেদের মধ্যে একটু বিশৃঙ্খলা হয়েছিল, টুকিটাকি ঝামেলা হয়েছে, যা পারস্পরিকভাবে মীমাংসা করা হবে।" রাজিমুজ্জামানও দাবি করেন, হামলা বা আঘাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

দলীয় নেতাদের উপস্থিতি ও প্রতিক্রিয়া

ইফতার মাহফিলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক মুজাহিদ এমপি এবং জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি তারিকুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিয়ে আতিক মুজাহিদ বলেন, "বিষয়টা নিয়ে আমরা বসেছি। যারা অন্যায় করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

সংঘর্ষের পটভূমি ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনা এনসিপির অভ্যন্তরীণ সংগঠনিক ঐক্যে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় পর্যায়ে ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলে জানা গেছে। ইফতার মাহফিলের মতো একটি ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে এমন সংঘর্ষ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

রংপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনা আলোচনার জন্ম দিয়েছে, এবং দলীয় নেতৃত্বের কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠছে আহত নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে। ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা প্রতিরোধে দলীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।