রংপুরে এনসিপির ইফতার মাহফিলে সংঘর্ষ: যুবশক্তির দুই সংগঠক আহত, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
রংপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়ে যুবশক্তির দুই সংগঠক মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহ ও লেমন শাহ বেসরকারি একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আজ বুধবার রাতে শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই ইফতার অনুষ্ঠানে ছাত্রশক্তির নেতাদের হামলার অভিযোগ উঠেছে, যাতে মোট পাঁচ নেতা-কর্মী আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
ঘটনার বিবরণ ও আহতদের অবস্থা
ইফতার মাহফিলে স্টেডিয়াম গেটে অভ্যর্থনার দায়িত্বে থাকা ছাত্রশক্তির নেতারা যুবশক্তির কয়েকজন কর্মীকে প্রবেশে বাধা দেন, যা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। যুবশক্তির নেতা আলমগীর নয়নের অভিযোগ, ছাত্রশক্তির নেতারা তাঁকে ধাক্কা মেরে হট্টগোল সৃষ্টি করেন এবং পরবর্তীতে যুবশক্তির সংগঠকদের মারধর করা হয়। আহত মোতাওয়াক্কিল বিল্লাহ জানান, তাঁকে টেবিলের কাঠ দিয়ে আঘাত করা হয়, এবং তিনি হামাগুড়ি দিয়ে মাঠে পড়ে যান। লেমন শাহ ও অন্যরা তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে হামলার শিকার হন।
আহতদের মধ্যে দুজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন, এবং তিনজন বেসরকারি কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে, তবে চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।
অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া
ছাত্রশক্তির নেতা ফারহান তানভীর ও রাজিমুজ্জামান হৃদয় ঘটনাটিকে ‘টুকিটাকি ঝামেলা’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেন যে মারামারি দুই পক্ষের হয়েছে এবং কোনো হামলা বা গায়ে আঘাতের ঘটনা ঘটেনি। তারা বলেন, ‘এটা অভ্যন্তরীণ বিষয়, নিজেদের মধ্যে মীমাংসা করা হবে।’
অন্যদিকে, এনসিপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আতিক মুজাহিদ ঘটনাটি তদন্তের কথা জানিয়ে বলেন, ‘যাঁরা অন্যায় করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে যোগ করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রভাব
এই ঘটনা রংপুরের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে এনসিপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, এবং সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদসহ অন্যান্য নেতারা। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই সংঘর্ষ দলীয় ঐক্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
ঘটনাটি রংপুর বিভাগের রাজনৈতিক গতিবিধিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও পদক্ষেপের দাবি উঠছে।
