রাঙামাটিতে এনসিপির গণপদত্যাগ: জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির ৮৭ নেতা-কর্মী দল ছাড়লেন
রাঙামাটিতে এনসিপির গণপদত্যাগ, জুরাছড়িতে ৮৭ জন পদত্যাগ

রাঙামাটিতে এনসিপির গণপদত্যাগ: জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির ৮৭ নেতা-কর্মী দল ছাড়লেন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাঙামাটি জেলার জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমাসহ মোট ৮৭ জন নেতা-কর্মী গণপদত্যাগ করেছেন। এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে জেলা যুগ্ম সদস্যসচিব উজ্জ্বল চাকমার পদত্যাগের মাত্র পাঁচ দিন পর, যা দলটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও আদর্শিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পদত্যাগের প্রক্রিয়া ও কারণ

জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ চাকমা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি রাঙামাটি জেলা কমিটি জুরাছড়ি উপজেলার ৮৭ সদস্যের এই কমিটিকে ছয় মাসের জন্য অনুমোদন দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের অবস্থানের পরিবর্তনের কারণে তাঁরা সম্মিলিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। আজ সোমবার এক বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং পদত্যাগপত্র রাঙামাটি জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।

পদত্যাগী নেতারা ব্যাখ্যা করেছেন যে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে তাঁরা এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বড় একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করার মাধ্যমে এনসিপি তার স্বকীয়তা ও আদর্শ থেকে সরে এসেছে বলে তাঁদের ধারণা। অসিম চাকমা স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমাদের পক্ষে সেই আদর্শকে লালন করা আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই আজ থেকে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাঙামাটি জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জুরাছড়ি উপজেলা আহ্বায়কসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দলের প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব

জাতীয় নাগরিক পার্টির রাঙামাটি জেলা শাখার আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির গণপদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সাংগঠনিক পদত্যাগপত্র তাঁর কাছে পৌঁছেছে এবং বিষয়টি দলীয় পর্যায়ে বিবেচনা করা হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এদিকে, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা মন্তব্য করেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে পদত্যাগের খবর পাওয়া গেছে। তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, নিয়ম অনুযায়ী লিখিত পদত্যাগপত্র সঠিক কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে কি না। তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে যদি তাঁরা পদত্যাগ করতেন, তাহলে নির্বাচনের আগেই করতেন। যেহেতু নির্বাচনের পরে পদত্যাগ করছেন, আমরা ধারণা করছি কোনো রাজনৈতিক চাপ থাকতে পারে।’

গণপদত্যাগে সাংগঠনিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মনজিলা সুলতানা দাবি করেছেন যে, এতে সংগঠনের ওপর বড় কোনো প্রভাব পড়বে না এবং নতুন করে কমিটি গঠন করা হবে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, এই পদত্যাগ দলটির স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রমে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।

আদর্শিক সংকট ও ভবিষ্যৎ

পদত্যাগী নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, দলটির বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে তাঁদের আদর্শিক অবস্থান মিলছে না, তাই তাঁরা সব সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। কোনো রাজনৈতিক দলের চাপের কারণে পদত্যাগ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অসিম চাকমা স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের চাপে পদত্যাগ করেননি; বরং আদর্শিক পার্থক্যই মূল কারণ।

এই গণপদত্যাগ এনসিপির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, বিশেষ করে রাঙামাটি অঞ্চলে দলটির ভিত্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা দলটির অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, যা আগামী দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হতে পারে।