বিএসইসির নতুন কমিশনের অগ্রাধিকার স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটালাইজেশন
বিএসইসির নতুন কমিশনের লক্ষ্য স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ ও ডিজিটালাইজেশন

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নবগঠিত কমিশন তাদের কার্যপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেছেন, যেখানে প্রয়োজন সেখানে নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা হবে এবং যেখানে সম্ভব সেখানে নিয়ন্ত্রণ সহজ করা হবে। ভালো কোম্পানি বাজারে আনতে সরাসরি তালিকাভুক্তির নতুন কাঠামো তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া তিনটায় আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে যোগদানের পর সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ খান এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক ও নবনিযুক্ত তিন কমিশনার।

নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সংস্কার

মাসুদ খান বলেন, 'বাজারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে। যেখানে প্রয়োজন সেখানে কঠোর ও স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা হবে। আর যেখানে সম্ভব সেখানে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সহজ করা হবে। ধীরে ধীরে বাজারকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করতে কাজ করবে এই কমিশন।' তিনি আরও বলেন, 'এমন একটি কমিশন গড়ে তোলা হবে যা প্রযুক্তিনির্ভর হবে এবং কাজ হবে দ্রুত ও অংশীজনদের জন্য সহজ।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা

নতুন দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই বাজারের কারসাজিকারকদের জন্য কঠোর বার্তা দেন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, কারসাজিমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে রিয়েল টাইম ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কারসাজিকারকদের আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। কারসাজি নিয়ন্ত্রণে জেড শ্রেণিভুক্ত কোম্পানির ওপর বিশেষ নজরদারি করা হবে। বিএসইসির সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাজারভিত্তিক মূল্য নিশ্চিতকরণ

মাসুদ খান বলেন, শেয়ারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ বা বাজারের উত্থান-পতন ঠেকানোর কৃত্রিম কোনো ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হবে না কমিশন। বাজারভিত্তিক ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কাজ করবে এই কমিশন। প্রায় ৩০ মিনিটের লিখিত বক্তব্যে তিনি কমিশনের দর্শন ও পরিকল্পনা বিস্তারিত তুলে ধরেন। নতুন কমিশনের দর্শন হচ্ছে প্রথমে স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ, তারপর ডিজিটালাইজেশন, ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ধারাবাহিকভাবে স্বচ্ছতা ও সুশাসনের উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

নতুন কমিশনারদের নিয়োগ

বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএসইসির চেয়ারম্যান ও তিন কমিশনার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান ক্রাউন সিমেন্টের গ্রুপ সিইও এবং ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান মাসুদ খান। কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান আইনজীবী নাহিদ মাহতাব, আশা ইন্টারন্যাশনালের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা তানভীর হাবিব রহমান ও ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাফিজ আল তারিক। তাঁদের সবাইকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক ত্যাগের শর্তে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

পূর্ববর্তী কমিশনের পদত্যাগ

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন পদত্যাগ করে। সকালে পদত্যাগের পরপরই দুপুরের মধ্যে নতুন কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।