যশোরে হ্যান্ডমাইকে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো, পুলিশ জব্দ করেছে
যশোরে হ্যান্ডমাইকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, পুলিশ জব্দ

যশোরে হ্যান্ডমাইকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানো, পুলিশ জব্দ করেছে

যশোর শহরের জনবহুল চারখাম্বা এলাকায় একটি বাড়ির প্রাচীরে রাখা হ্যান্ডমাইকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজতে শোনা গেছে। শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৯টার দিকে হঠাৎ মাইক থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ভেসে আসতে শুরু করলে, উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। স্থানীয়রা বিষয়টি জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হ্যান্ডমাইকটি জব্দ করে কোতয়ালী মডেল থানায় নিয়ে যায়। তবে কে বা কারা সেখানে মাইকটি রেখে গেছে, তা এখনো অজানা রয়ে গেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যশোর শহরের ব্যস্ততম সড়ক চারখাম্বা মোড়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই শেখ রাসেলের আবক্ষ ভাস্কর্য ছিল। সে কারণে মোড়টির নামকরণ করা হয়েছিল শেখ রাসেল চত্বর। জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ভাস্কর্যটি ভেঙে দেয়। শনিবার রাতে চারখাম্বা মোড় থেকে চৌরাস্তার দিকে প্রবীণ শিক্ষাবিদ পাভেল চৌধুরীর বাড়ির প্রাচীরের ওপর কে বা কারা সাদা ও নীল রঙের একটি হ্যান্ডমাইক রেখে যায়। সেখানে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণটি বাজতে থাকে।

এ সময় আশপাশের মানুষ মাইকের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। অনেকেই মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন, যা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে কোতয়ালী মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় চা দোকানদার রমজান বলেন, "হঠাৎ দেয়ালের ওপর রাখা মাইক থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজতে শুরু করে। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারিনি। পরে কাছে গিয়ে দেখি হ্যান্ডমাইক থেকে ভাষণটি বাজছে। মাইকের পাশে দুটি বড় ফুলগাছের ডাল ঝুলে থাকায় কে এসে মাইকটি রেখে গেছে, তা বোঝা যায়নি।"

পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ

যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, "স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি চারখাম্বা মোড়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজছে। পরে পুলিশ গিয়ে মাইকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। কে বা কারা ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এটি একটি প্রতীকী বার্তা হতে পারে, বিশেষ করে শেখ রাসেল চত্বরের ভাস্কর্য ভাঙার পরিপ্রেক্ষিতে। অন্যদিকে, কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছে এবং সাক্ষাৎকার নিচ্ছে সম্ভাব্য সাক্ষীদের।