নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা: গোলাম পরওয়ারের প্রতিবাদ
নির্বাচন-পর সহিংসতায় জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা: গোলাম পরওয়ারের প্রতিবাদ

চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিজয়ীদের দ্বারা পরাজিতদের ওপর হামলা এবং বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও নৃশংস আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানান।

সহিংসতার চিত্র ও প্রতিবাদ

মিয়া গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের পর থেকে দেশজুড়ে চরম অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, "বিভিন্ন স্থানে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে, বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হচ্ছে এবং নিষ্ঠুরভাবে আঘাত করা হচ্ছে, যা আমাদের প্রত্যাশিত নয়।" বিশেষ করে তিনি চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে শনিবার ইফতারের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে চালানো হামলার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে একজন নেতা শাহাদাতবরণ করেছেন এবং অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের আহ্বান

তিনি রাজনীতিতে সহনশীলতা ও একে অপরকে মেনে নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তোলার অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "একটি সাইকেল যেমন দুটি চাকা ছাড়া চলতে পারে না, তেমনি একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় সরকারি দল এবং বিরোধী দল হলো দুটি চাকার মতো। এই দুই চাকার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমেই দেশ সামনের দিকে এগিয়ে যায়।"

সরকারের কাছে দাবি ও ভবিষ্যৎ সতর্কতা

তিনি ১২ মার্চ জাতীয় সংসদ অধিবেশন আহ্বানের কথা উল্লেখ করে বলেন, যদি এই সহিংসতা বন্ধ না করা হয়, তবে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যাবে। মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের কাছে জোর দাবি জানান, এসব সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।

আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ ও অন্যান্য বক্তব্য

বক্তব্যে তিনি শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহর ওপর চলমান নির্মমতার প্রতিবাদও জানান। তিনি ইহুদিবাদী ইসরাইল ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের যৌথ আক্রমণ এবং ফিলিস্তিন ও ইরানের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি চট্টগ্রামের ১৬ জন সংসদ সদস্যের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামকে দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর হিসেবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিএনপির সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহানসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এই ইফতার মাহফিলটি চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণের জোরালো বার্তা ফুটে উঠেছে।