চুয়াডাঙ্গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে জামায়াত নেতার ভাই নিহত, উত্তেজনা ছড়িয়েছে
চুয়াডাঙ্গায় সংঘর্ষে জামায়াত নেতার ভাই নিহত, উত্তেজনা

চুয়াডাঙ্গায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে জামায়াত নেতার ভাই নিহত, উত্তেজনা ছড়িয়েছে

চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নে শনিবার রাতে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে জুয়েলারি ব্যবসায়ী ও জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান (৫২) নিহত হয়েছেন। তার ছোট ভাই হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মফিজুর রহমানসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাসাদাহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে জামায়াত কর্মী মাহদি হাসানকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। শনিবার ইফতারের পর সুটিয়া গ্রাম থেকে হাসাদাহ বাজারে আসার পথে মাহদি হাসান ও তার বাবা জসিম উদ্দিনের ওপর হামলা চালানো হয়।

এ খবর পেয়ে জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ছয়জন আহত হন।

আহতদের চিকিৎসা ও নিহতের পরিচয়

আহতদের প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত হাফিজুর রহমানকে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত দুইটার দিকে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত হাফিজুর রহমান জীবননগর উপজেলার সুটিয়া গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে ছিলেন। তিনি একজন জুয়েলারি ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় জামায়াত কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সংঘর্ষের পর হাসাদাহ বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জীবননগর থানা পুলিশসহ সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পুরো উপজেলাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

জীবননগর পৌর জামায়াতের পৌর যুব বিভাগের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার বলেন, "পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি ও তাদের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে চারজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়।"

বিক্ষোভ ও আইনি ব্যবস্থা

এ ঘটনার প্রতিবাদে জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী রবিবার সকাল সাড়ে দশটায় বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে। অন্যদিকে, জীবননগর থানার পরিদর্শক (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, "শত্রুতার জেরে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমিরের ভাই নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের কমপক্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

এ ঘটনায় জীবননগর উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির কোনো একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে পাওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।