সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে ওয়েবসাইট ঠিকানা বদল, নথি হারানোর শঙ্কা
বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকে সরকারি অনলাইন কার্যক্রমে পরিবর্তন এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইট এখন পিএমও ডট গভ ডট বিডি ঠিকানা থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। অন্যদিকে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের ওয়েবসাইটটি, যা আগে সিএও ডট গভ ডট বিডি ঠিকানায় ছিল, তা এখন আর আলাদাভাবে পাওয়া যাচ্ছে না।
ওয়েবসাইট বদলে নথি হারিয়ে যাওয়ার উদ্বেগ
এই ঠিকানা বদলের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে প্রকাশিত বিভিন্ন নথি, ভাষণ ও দলিল অনলাইনে সহজে খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সরকার পরিবর্তনের পর সরকারপ্রধানের কার্যালয়ের ওয়েবসাইট সরিয়ে নেওয়া একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। তিনি দাবি করেন, নথিপত্র আর্কাইভে সংরক্ষিত রয়েছে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে সেগুলো পাওয়া যাবে।
তবে যুক্তরাজ্যের সাংবাদিক ও কলামিস্ট ডেভিড বার্গম্যান ফেসবুকে লিখেছেন, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিলগুলো সংরক্ষিত রাখা এবং সবার জন্য সহজপ্রাপ্য করা জরুরি। তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার ওয়েবসাইটটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি তথ্যের ভান্ডার ছিল, এখন সেগুলো খুঁজে পাওয়া অনেক কঠিন।’
অন্তর্বর্তী সরকারের ফেসবুক পেজ সংরক্ষণ
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘চিফ অ্যাডভাইজার জিওবি’ নামে একটি অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ পরিচালিত হতো। প্রথমে এটিকে বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হলেও পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, পেজটিকে ‘ঐতিহাসিক সময়ের দলিল’ হিসেবে উন্মুক্ত রেখে দেওয়া হবে।
আগের ঘটনা ও নথি অপসারণের ইতিহাস
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটটি বদলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় করা হয়েছিল। গত বছর এপ্রিলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অতীত সরকারের অপ্রয়োজনীয় তথ্য সরিয়ে নেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, যার ফলে কিছু মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদনও ওয়েবসাইট থেকে অপসারণ করা হয়েছিল।
সরকারি এক সিস্টেম অ্যানালিস্ট নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কিছু প্রতিবেদন আর্কাইভ করা হয়নি এবং সেগুলো আর পাওয়া যাবে না। ডেভিড বার্গম্যানের মতে, নতুন সরকারের উচিত এখনই উদ্যোগ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ওয়েবসাইট এবং এর উপকরণগুলো পুনরায় চালু করা, যাতে গবেষক, সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিকরা সহজেই তথ্য পেতে পারেন।
