সরাইলে বাধা পেয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে ব্যর্থ হলেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা
সরাইলে বাধা পেয়ে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে ব্যর্থ রুমিন ফারহানা

সরাইলে বাধার মুখে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে ব্যর্থ হলেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নবনির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সরাইলে বাধার সম্মুখীন হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি। শুক্রবার দিবাগত রাতে স্থানীয় শহীদ মিনার এলাকায় এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান রুমিন ফারহানা। এই সময় সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারের নেতৃত্বে একদল যুবক মিছিল নিয়ে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং তাকে শ্রদ্ধা জানাতে স্পষ্টভাবে বাধা প্রদান করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ফুল না দিয়েই এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি।

সমর্থকদের প্রতিবাদ ও মহাসড়ক অবরোধ

এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার সমর্থকেরা সরাইলের শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সড়ক বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হন। দুই পাশে অন্তত ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে।

পুলিশের হস্তক্ষেপ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তৎপরতা চালায় এবং যানজট নিরসনে সফল হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রুমিন ফারহানার প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগ

ঘটনার বিষয়ে রুমিন ফারহানা তীব্র অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে। বিএনপি যদি এখনই মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ না করে, তবে এর পরিণাম ভয়াবহ হবে।’ তিনি আরও জানান, এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ সময় আব্দুল আহাদ নামে তার এক আহত কর্মীর অবস্থাও তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তুলে ধরেন, যা ঘটনার তীব্রতা নির্দেশ করে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেক বাসিন্দা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশের অতিরিক্ত মোতায়েন এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে, তবে উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এই ঘটনা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং নির্বাচন-পরবর্তী পরিবেশ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।